ডাম শারাডস পয়েন্ট ও দল ভাগ: ন্যায্যভাবে খেলার সহজ নিয়ম
ডাম শারাডস পয়েন্ট ও দল ভাগের সহজ নিয়ম: দুটো সমান দল বানান, প্রতি দলে তিন থেকে ছয়জন, আর ছোট-বড় মিশিয়ে দিন। এক চিরকুটে ৬০ সেকেন্ড, ঠিক হলে এক পয়েন্ট। দুই দল সমান পালা পাবে, শেষে বেশি পয়েন্ট যার, সে জয়ী।
টস করে শুরু করুন, তাহলে কে আগে খেলবে তা নিয়েও তর্ক হবে না।
কতজন খেলোয়াড়ে কটা দল বানাবেন?
| খেলোয়াড় | দল | কীভাবে খেলবেন |
|---|---|---|
| ৩ জন | দল নেই | একজন অভিনয়, দুজন অনুমান; ঠিক ধরলে অভিনেতা আর অনুমানকারী দুজনেই ১ পয়েন্ট |
| ৪ থেকে ১২ জন | ২ দল | প্রচলিত খেলা, প্রতি দলে ২ থেকে ৬ জন |
| ১৩ থেকে ২০ জন | ৩ দল | প্রতি দলে ৪ থেকে ৭ জন, পালা ঘুরবে ঘড়ির কাঁটার দিকে |
| ২০ জনের বেশি | ৪ দল বা রিভার্স ধরন | বিয়েবাড়ি বা পারিবারিক পুনর্মিলনীর মতো বড় আসরে |
খেলোয়াড় সংখ্যা নিয়ে আরও বিস্তারিত পাবেন ডাম শারাডস খেলতে কতজন লাগে লেখায়।
দল কীভাবে সমানভাবে ভাগ করবেন?
পাড়ার ক্রিকেটে যেভাবে দল বাছা হয়, ডাম শারাডসেও সেটাই সবচেয়ে ন্যায্য:
- দুজন অধিনায়ক ঠিক করুন। সাধারণত বাড়ির দুই কাজিন বা দুই বন্ধু।
- টস করুন। যে জেতে সে প্রথম খেলোয়াড় বাছবে।
- পালা করে বাছুন। একজন একজন করে, যতক্ষণ না সবাই কোনো দলে যায়।
- বয়স মিলিয়ে নিন। এক দলে দাদু থাকলে অন্য দলেও একজন বড় রাখুন, এক দলে সাত বছরের ভাগ্নি থাকলে অন্য দলেও একটা ছোট কেউ।
আরও কয়েকটা কৌশল:
- চিরকুট লটারি: কাগজে “ক” আর “খ” লিখে সবাই একটা করে তুলুন। দ্রুত আর কেউ অভিযোগ করতে পারে না।
- স্বামী-স্ত্রী আলাদা দলে: নিজেদের মধ্যে ইশারা বোঝার সুবিধা থাকে, তাই আলাদা রাখলে খেলা জমে।
- ভাইবোনের জোড়া ভাঙুন: একই কথা খাটে ভাইবোনের ক্ষেত্রেও।
প্রতি পালায় কত সময় রাখবেন?
| খেলার ধরন | সময় |
|---|---|
| প্রচলিত, একটা চিরকুট | ৬০ সেকেন্ড |
| সিনেমা বা গানের লম্বা নাম | ৯০ সেকেন্ড |
| দ্রুত রাউন্ড, যত বেশি চিরকুট | ৬০ সেকেন্ড |
| বাচ্চাদের দল | ৯০ থেকে ১২০ সেকেন্ড |
| কঠিন বিষয় (প্রবাদ, পুরনো সিনেমা) | ১২০ সেকেন্ড |
সময় নিয়ে নানা বিকল্প আর কোনটা কোন দলের জন্য ভালো, তা বিস্তারিত আছে প্রতি পালার সময় লেখায়।
পয়েন্ট গোনার কোন পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো?
১. প্রচলিত পদ্ধতি: ঠিক উত্তরে ১, সময় শেষে ০। সবচেয়ে সহজ, নতুনদের জন্য সেরা।
২. দ্রুত রাউন্ড: এক মিনিটে দল যতগুলো চিরকুট ধরতে পারে, ততগুলো পয়েন্ট। পাস করলে পয়েন্ট নেই, তবে কাটাও যায় না। অভিনয় করো ডেকের মতো সহজ কাজের শব্দ এই পদ্ধতিতে দারুণ চলে: পিঠ চুলকানো, বেলুন ফোলানো, জানালা খোলা।
৩. সময় ধরে: প্রতিটা চিরকুট ধরতে কত সেকেন্ড লাগল লিখে রাখুন। খেলা শেষে যে দলের মোট সময় কম, তারা জয়ী। প্রতিযোগিতামূলক বন্ধুদের দলে এটা সবচেয়ে উত্তেজনার।
বোনাস নিয়ম (ঐচ্ছিক):
- প্রথম ৩০ সেকেন্ডে ধরলে ১ বোনাস পয়েন্ট
- প্রতিপক্ষ নিয়ম ভাঙা ধরতে পারলে তাদের ১ পয়েন্ট
- ছোটদের অভিনয় ঠিক ধরা পড়লে পুরো দলের ১ বোনাস, যাতে সবাই ছোটদের সাহায্য করে
পাস, ভুল আর নিয়মভঙ্গে পয়েন্ট কাটবেন কি?
এই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি তর্ক হয়, তাই খেলার আগে একবারে ঠিক করে নিন:
- পাস: প্রচলিত খেলায় প্রতি দল পুরো খেলায় একবার চিরকুট বদলাতে পারে। দ্রুত রাউন্ডে পাস যত খুশি, কিন্তু পাসে পয়েন্ট নেই।
- ভুল অনুমান: কোনো শাস্তি নেই। ভুল উত্তর বলতে বলতেই দল ঠিক উত্তরে পৌঁছায়, তাই ভুল বলায় উৎসাহ দিন।
- কথা বলে ফেললে: সেই চিরকুটের পয়েন্ট বাতিল, পালা শেষ।
- প্রতিপক্ষ উত্তর বলে দিলে: অভিনেতার দল পয়েন্ট পায়, কারণ খেলা নষ্ট করেছে অন্য দল।
মিশ্র বয়সের আসরে পয়েন্ট কাটার নিয়ম যত কম রাখবেন, ছোটরা তত সাহস করে অভিনয়ে নামবে।
ডাম শারাডস পয়েন্ট ও দল ভাগে কোন ভুলগুলো বেশি হয়?
নিয়ম জানা থাকলেও কয়েকটা চেনা ভুলে খেলা একতরফা হয়ে যায়:
- এক দলে সব অভিজ্ঞ খেলোয়াড়: গত ঈদে যারা জিতেছিল, এবার তাদের দুই দলে আলাদা করে দিন।
- পালার হিসাব না রাখা: এক দল পাঁচবার আর অন্য দল চারবার খেললে ফল ন্যায্য হয় না। খাতায় পয়েন্টের পাশে পালাও লিখুন।
- খেলার মাঝে নিয়ম বদলানো: বোনাস বা পাসের নিয়ম শুরুতেই ঠিক করুন, পিছিয়ে পড়া দলের অনুরোধে মাঝপথে নয়।
- একই মানুষ বারবার অভিনয়ে: দলের সেরা অভিনেতাকে দিয়ে সব পালা চালালে বাকিরা বিরক্ত হয়। পালা ঘোরানো বাধ্যতামূলক রাখুন।
- স্কোরকিপার নিজেই খেলোয়াড়: সম্ভব হলে স্কোর লেখার দায়িত্ব এমন কাউকে দিন যিনি খেলছেন না, যেমন বাড়ির বড় কেউ।
ক্রিকেটের নিয়মে কীভাবে খেলবেন?
প্রায় সব বাঙালি পরিবার ক্রিকেট বোঝে, তাই ক্রিকেটের ভাষায় নিয়ম বললে নানু থেকে নাতি সবাই এক মুহূর্তে বুঝে যায়:
| ক্রিকেট | ডাম শারাডসে মানে |
|---|---|
| টস | কোন দল আগে খেলবে |
| ওভার | একটা দলের টানা ছয়টা চিরকুট |
| ইনিংস | এক দলের সব ওভার মিলিয়ে |
| আম্পায়ার | নিরপেক্ষ বিচারক, যার কথাই শেষ কথা |
| সুপার ওভার | পয়েন্ট সমান হলে দুই দলের এক চিরকুটের টাইব্রেকার |
| ডাক আউট | একটাও না ধরতে পারা পালা |
চাইলে টাইব্রেকারে আমাদের ক্রিকেট ডেক থেকে চিরকুট দিন: আম্পায়ারের সিগন্যাল, হেলিকপ্টার শট, রিভার্স সুইপ। খেলার বিষয় আর নিয়ম দুটোই তখন ক্রিকেটময়।
স্কোর কীভাবে লিখে রাখবেন?
একটা খাতায় দুই কলাম করুন, প্রতি রাউন্ড শেষে স্কোরকিপার জোরে পড়ে শোনাবে:
| রাউন্ড | দল ক | দল খ |
|---|---|---|
| ১ | ১ | ০ |
| ২ | ১ | ১ |
| ৩ | ০ | ১ |
| মোট | ২ | ২ |
খেলা শেষ হওয়ার আগে ঠিক করে নিন কত রাউন্ড হবে, যেমন প্রতি দলের পাঁচ পালা। নইলে যে দল পিছিয়ে, সে “আরেকটা রাউন্ড” বলতেই থাকবে। নিয়ম পরিষ্কার থাকলে হার-জিত দুটোই হাসিমুখে মেনে নেওয়া সহজ হয়।