নিজেই ডাম শারাডসের কার্ড বানানোর সহজ উপায় ও টিপস
ডাম শারাডসের কার্ড বানানো খুব সহজ: লাগে শুধু কাগজ, কলম আর একটা বাটি। প্রতি জনের জন্য তিন থেকে পাঁচটা শব্দ লিখুন, কোণায় বিষয় দিন, আর সহজ, মাঝারি ও কঠিন মিশিয়ে রাখুন। ভাঁজ করে বাটিতে ফেলুন, খেলা শুরু। সব মিলে পনেরো মিনিটের কাজ।
মোটা কাগজে লিখলে পরের বারও কাজে লাগবে।
বাঙালির চিরকুট পদ্ধতি কী?
বাঙালি পরিবারে এই খেলার সবচেয়ে পুরনো রূপ হলো চিরকুট। খাতার পাতা ছিঁড়ে ছোট ছোট টুকরো, প্রত্যেকে কয়েকটা করে লেখে, ভাঁজ করে একটা বাটি বা টিফিন বক্সে ফেলে। তারপর পালা করে একজন একটা তোলে।
এই পদ্ধতির সৌন্দর্য হলো সবাই খেলায় নিজের কিছু রাখে, আর কার্ড তোলার মুহূর্তে সবাই অপেক্ষা করে কার লেখা শব্দ উঠল। মামার লেখা পুরনো সিনেমা, কাজিনের লেখা নতুন গান, ছোট বোনের লেখা কার্টুন, সব মিলে একটা পারিবারিক তালিকা তৈরি হয়। তবে কিছু নিয়ম না মানলে সমস্যাও হয়: কেউ এমন শব্দ লেখে যা শুধু সে নিজে জানে, কেউ একই সিনেমা দুবার লেখে।
ডাম শারাডসের কার্ড বানানোর ধাপগুলো কী?
- কাগজ কাটুন: একটা A4 কাগজ আট ভাগ করলেই আটটা কার্ড। মোটা কাগজ হলে পেছন থেকে লেখা দেখা যায় না।
- বিষয় ঠিক করুন: চার থেকে ছয়টা বিষয় বাছুন, যেমন সিনেমা, গান, প্রাণী, কাজ, খাবার আর পেশা।
- শব্দ লিখুন: প্রতিটা কার্ডে একটা শব্দ বা নাম, উপরে কোণায় ছোট করে বিষয়।
- কঠিনতা চিহ্ন দিন: পেছনে এক, দুই বা তিনটা তারা আঁকুন। চাইলে কঠিন কার্ডে বেশি পয়েন্ট।
- মিলিয়ে দেখুন: সব কার্ড একবার পড়ে দেখুন, একই শব্দ দুবার থাকলে একটা বাদ দিন।
- ভাঁজ করে রাখুন: সব কার্ড একইভাবে ভাঁজ করুন, যাতে কোনোটা আলাদা করে চেনা না যায়।
- সংরক্ষণ: খেলা শেষে একটা খামে রেখে দিন, পরের বার কাজে আসবে।
একটা নমুনা কার্ড দেখতে এমন হতে পারে: উপরের বাঁ কোণায় ছোট করে “সিনেমা”, মাঝখানে বড় অক্ষরে “হীরক রাজার দেশে”, আর পেছনে একটা তারা। যুক্তাক্ষর আছে এমন শব্দ পরিষ্কার করে লিখুন, কারণ তাড়াহুড়োয় পড়তে গিয়ে অভিনেতা ভুল শব্দ দেখাতে শুরু করলে পুরো পালাটাই নষ্ট হয়।
কোন বিষয়ে কতগুলো কার্ড রাখবেন?
ভারসাম্য না থাকলে খেলা একঘেয়ে হয়ে যায়। ৪০টা কার্ডের একটা সেটের জন্য একটা নমুনা ভাগ:
| বিষয় | কার্ড সংখ্যা | উদাহরণ |
|---|---|---|
| রোজকার কাজ | ১০ | স্ট্র দিয়ে পানি খাওয়া, পিঠ চুলকানো, বেলুন ফোলানো |
| প্রাণী | ৮ | খরগোশ, গণ্ডার, পেঁচা, সাপ |
| সিনেমা | ৮ | হীরক রাজার দেশে, চারুলতা, পিকে, টাইটানিক |
| গান | ৬ | একলা চলো রে, চল চল চল, কল হো না হো |
| পেশা | ৪ | ডাক্তার, দর্জি, জেলে |
| প্রবাদ | ৪ | আঙুল ফুলে কলাগাছ, ডুমুরের ফুল |
রোজকার কাজের উদাহরণগুলো অভিনয় করো ডেকের নমুনা থেকে, প্রাণীগুলো প্রাণী ডেকের নমুনা থেকে, আর সিনেমার নামগুলো সিনেমা ডেকের নমুনা থেকে নেওয়া। এগুলো দিয়ে শুরু করলে নিজের তালিকায় কী ধরনের শব্দ রাখবেন, তার একটা ধারণা পাবেন।
কঠিনতা কীভাবে মেলাবেন?
একটা ভালো সেটে মোটামুটি অর্ধেক সহজ, এক-তৃতীয়াংশ মাঝারি আর বাকিটা কঠিন কার্ড থাকে। সহজ কার্ড বেশি রাখার কারণ হলো, প্রথম কয়েকটা পালায় সবাই পয়েন্ট পেলে খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়ে, আর কঠিন কার্ডের জন্য ধৈর্যও তৈরি হয়। কোন কার্ড কোন স্তরের, বোঝার একটা সহজ পরীক্ষা:
- সহজ: একটা ভঙ্গিতেই বোঝানো যায়। যেমন খাওয়া, ঘুমানো, কুকুর, দাঁত মাজা।
- মাঝারি: দুই-তিনটা ভঙ্গি লাগে বা একটু ভাবতে হয়। যেমন নাপিত চুল কাটছে, ঠাসা বাসে ওঠা, কোয়ালা।
- কঠিন: শব্দ ভেঙে দেখাতে হয় বা বিমূর্ত ধারণা। যেমন নস্টালজিয়া, শাঁখের করাত, জীবিত থাকার ভান করা।
পরিবারে ছোটরা থাকলে সহজের ভাগ বাড়িয়ে দিন। শুধু অভিজ্ঞ বন্ধুরা খেললে কঠিনের ভাগ বাড়ান। আরও চ্যালেঞ্জিং শব্দ খুঁজলে কঠিন ডাম শারাডস শব্দ তালিকা দেখুন।
সবাই মিলে কার্ড লেখার নিয়ম কী?
চিরকুট পদ্ধতিতে সবাই লিখলে কয়েকটা নিয়ম আগে বলে দিন:
- সবার চেনা শব্দ: এমন শব্দ লিখুন যা ঘরের অন্তত অর্ধেক মানুষ চেনে।
- ব্যক্তিগত ঠাট্টা নয়: কাউকে খোঁচা দেওয়া বা কারো গোপন কথা নিয়ে কার্ড নয়।
- পরিবারের উপযোগী: ছোটরা থাকলে এমন কিছু নয় যা তাদের সামনে বলা যায় না।
- স্পষ্ট হাতের লেখা: “দেবদাস” যেন “দেবদারু” না পড়া যায়।
- একই রকম ভাঁজ: নিজের কার্ড আলাদা করে চেনার মতো বিশেষ ভাঁজ নয়।
- নিজের কার্ড তুললে: আবার বাটিতে রেখে অন্যটা তুলুন।
কার্ড আরও মজার করার কিছু আইডিয়া
- রঙ দিয়ে বিষয়: সিনেমার কার্ড লাল কাগজে, গান নীল কাগজে, প্রাণী সবুজে। অভিনেতা কার্ড দেখার আগেই দল বিষয় জেনে যায়, ছোটদের জন্য এটা দারুণ সাহায্য।
- পারিবারিক কার্ড: পরিবারের চেনা মুহূর্ত, যেমন “নানার রেডিওতে খবর শোনা” বা “ঈদের সালামি গোনা”। এগুলোতে সবচেয়ে বেশি হাসি।
- উৎসবের সেট: ঈদ, পূজা, বড়দিন বা জন্মদিনের জন্য আলাদা খাম। উৎসবের আগের দিন খামটা বের করে নতুন কয়েকটা কার্ড যোগ করুন।
- ছবির কার্ড: যারা এখনো পড়তে পারে না, তাদের জন্য শব্দের বদলে ছোট্ট ছবি আঁকুন।
- চ্যালেঞ্জ কার্ড: কয়েকটা কার্ডে বাড়তি শর্ত লিখুন, যেমন “এক পায়ে দাঁড়িয়ে দেখাও” বা “চোখ বন্ধ করে দেখাও”। এগুলো মাঝে মাঝে এলে খেলায় নতুন চমক আসে।
তৈরি ডেক কখন বেশি কাজে দেয়?
নিজের কার্ড বানানোর মজা আছে, কিন্তু কয়েকটা পরিস্থিতিতে তৈরি ডেক সময় বাঁচায়:
| পরিস্থিতি | কেন তৈরি ডেক ভালো |
|---|---|
| হঠাৎ অতিথি এলে | কার্ড লেখার পনেরো মিনিট লাগে না |
| পিকনিক বা ছাদে | চিরকুট বাতাসে উড়ে যায় না |
| অনেকবার খেলা হয়েছে | পরিবারের সবাই সব চিরকুট মুখস্থ করে ফেলেছে |
| নতুন বিষয় চাই | একা বসে শত শত শব্দ ভাবা কঠিন |
Act Up অ্যাপে ১০৭টা ডেকে দশ হাজারের বেশি কার্ড আছে, যার মধ্যে অভিনয় করো, অনুকরণ, প্রাণী আর আবেগ ডেক চিরকাল ফ্রি। চিরকুট আর তৈরি ডেক মিশিয়েও খেলতে পারেন: পারিবারিক কার্ডগুলো নিজে লিখুন, বাকিটা ফোন থেকে।