ভূতের ডাম শারাডস: হ্যালোউইন ও ভুতুড়ে পার্টির মজার শব্দ
ভূতের ডাম শারাডসে দেশি ভূত আর হ্যালোউইনের চেনা চরিত্র মিশিয়ে দিন: পেত্নী, শাঁকচুন্নি, ব্রহ্মদত্যি, মেছো ভূত, ড্রাকুলা আর মমি। আলো একটু কমিয়ে, ভয় হালকা আর হাসি বেশি রেখে খেললে ছোট-বড় সবাই মজা পায়। পরিবার বা বন্ধু, সবার জন্য এই রাউন্ড চলে।
হ্যালোউইন পার্টি, লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা বা শীতের রাতের গল্পের আসর, সব জায়গাতেই এই রাউন্ড জমে।
বাঙালির ভূতের খেলা কেন এত জমে?
হ্যালোউইন বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের বড় কোনো উৎসব নয়। কিন্তু ভূতের গল্প বাঙালির রক্তে। নানি-দাদির মুখে শোনা শাঁকচুন্নির গল্প, তেঁতুলগাছের ব্রহ্মদত্যি, মাছ চুরি করা মেছো ভূত, আর গুপী-বাঘার ভূতের রাজা: এসব সবার ছোটবেলার অংশ।
তাই অক্টোবরের শেষে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের কস্টিউম পার্টি হোক, কাজিনদের সাথে লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা হোক, বা শীতের রাতে গল্পের আসর, ভূতের রাউন্ড সব জায়গাতেই জমে। মূল নিয়ম একটাই: ভয় হবে হাসির, কান্নার নয়।
ভূতের ডাম শারাডসে দেশি ভূত কীভাবে অভিনয় করবেন?
হরর মুভি ডেকের নমুনায় পেত্নী, শাঁকচুন্নি, ব্রহ্মদত্যি, চুড়েল আর জ্বীনের মতো দেশি নাম আছে। বাকি নামগুলো ডেকের নমুনায় নেই, তবে গল্পের বই থেকে সবার চেনা।
| ভূত | অভিনয়ের টিপস | কঠিনতা |
|---|---|---|
| পেত্নী | লম্বা চুল সামনে ঝুলিয়ে উল্টো পায়ে হাঁটার ভান, নাকি সুরে হাসার মুখ | সহজ |
| শাঁকচুন্নি | হাতে শাঁখা পরার ভঙ্গি, তারপর ঘোমটা টেনে চুপিচুপি হাঁটা | মাঝারি |
| ব্রহ্মদত্যি | গাছের ডালে বসে পা দোলানো, গম্ভীর মুখে পৈতে দেখানো | মাঝারি |
| মেছো ভূত | রান্নাঘর থেকে চুপিচুপি মাছ তুলে কপকপ করে খাওয়া | সহজ |
| স্কন্ধকাটা | কাঁধের ওপর দুই হাত দিয়ে ফাঁকা জায়গা দেখানো, মানে মাথা নেই, তারপর হাতড়ে হাতড়ে হাঁটা | মাঝারি |
| গেছো ভূত | গাছে ঝুলে থাকা, নিচে কেউ এলেই হাত বাড়ানো | মাঝারি |
| ভূতের রাজা | রাজার মতো দাঁড়িয়ে তিন আঙুল তুলে তিনটি বর দেওয়া | কঠিন |
মেছো ভূতের কার্ড এলে প্রায় সবসময় পুরো ঘর হেসে ওঠে, কারণ সবার বাড়িতে মাছ নিয়ে কোনো না কোনো গল্প আছে।
হ্যালোউইনের চেনা শব্দ কোনগুলো?
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পার্টি বা কার্টুনের সুবাদে ছোটরা হ্যালোউইনের চরিত্রগুলো ভালোই চেনে। হ্যালোউইন ডেকের নমুনা থেকে কিছু:
- ভূত: মাথার উপর চাদর টেনে দুই হাত সামনে ঝুলিয়ে ভেসে চলা।
- জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন: দুই হাতে বড় গোল কুমড়া, তারপর আঙুল দিয়ে চোখ-মুখ কেটে ভেতরে মোমবাতি বসানো।
- মুখোশ: মুখের সামনে কিছু পরা, তারপর হঠাৎ সরিয়ে “ভয়” দেখানো।
- ভুতুড়ে বাড়ি: ধীরে ধীরে কাঁপা হাতে দরজা খোলা, কিছু শুনে লাফিয়ে পিছিয়ে আসা।
- কালো বিড়ালের চোখ: দুই হাতে চোখের পাশে বিড়ালের মতো সরু চোখ বানিয়ে অন্ধকারে তাকানো।
- মমির ব্যান্ডেজ খোলা: শক্ত হাতে হাঁটতে হাঁটতে গায়ের ব্যান্ডেজ খুলে যাওয়া, তারপর লজ্জায় আবার পেঁচানো।
- কাঁপাকাঁপি: পুরো শরীর কাঁপিয়ে দাঁত ঠকঠক করার মুখ।
- ভুতুড়ে সাজে স্কুলে যাওয়া: ব্যাগ কাঁধে ভূতের সাজে হাঁটা, আর রাস্তার সবাই অবাক।
বিদেশি চরিত্রদের মধ্যে ড্রাকুলা আর ভ্যাম্পায়ার হরর ডেকের নমুনাতেও আছে। ড্রাকুলা দেখাতে জামার কলার উঁচু করে চাদরকে ডানার মতো মেলে ধরুন।
রূপকথা আর পুরাণের দানব দিয়ে রাউন্ড
যারা ভূতের চেয়ে দানব বেশি পছন্দ করে, তাদের জন্য পুরাণ ডেকের কিছু চরিত্র দারুণ। নমুনায় মেডুসা, মৎসকন্যা, সেন্টর, কাইমিরা আর প্যান্ডোরার বাক্সের মতো কার্ড আছে।
- মেডুসা: মাথার চুলগুলো আঙুলে সাপের মতো নাড়ানো, যার দিকে তাকাবেন সে পাথর হয়ে যাবে।
- মৎসকন্যা: দুই পা জোড়া করে লেজের মতো নাড়ানো, পাথরে বসে চুল আঁচড়ানো।
- প্যান্ডোরার বাক্স: কৌতূহলে একটা বাক্স খুলেই আতঙ্কে আবার বন্ধ করার চেষ্টা।
দেশি রূপকথা থেকে নিজেরাও রাক্ষস-খোক্কস আর দৈত্যের চিরকুট লিখতে পারেন। ঠাকুমার ঝুলির গল্প শোনা প্রায় সব বাঙালি শিশুর এগুলো চেনা।
ভুতুড়ে দৃশ্য দিয়ে একটা রহস্য রাউন্ড
চরিত্রের বদলে পুরো একটা দৃশ্য অভিনয় করতে দিলে খেলাটা ছোট নাটকের মতো হয়ে যায়। হরর মুভি ডেকের নমুনায় এমন কয়েকটা দৃশ্য আছে, যা ভয়ের চেয়ে মজাই বেশি দেয়:
| দৃশ্য | কীভাবে দেখাবেন |
|---|---|
| রাতে দরজা নিজে থেকে খোলা | বসে বই পড়ছেন, হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে জমে যাওয়া |
| রাতে জানালার পর্দা নড়া | পর্দার দিকে আঙুল দেখিয়ে লেপের নিচে লুকিয়ে পড়া |
| আয়নায় অচেনা মুখ দেখা | চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে আয়নায় তাকিয়ে চোখ কপালে তোলা |
| পুরনো কুয়ায় ডাক শোনা | কুয়ার ধারে ঝুঁকে কান পাতা, তারপর দৌড়ে পালানো |
| রাতের নির্জন রাস্তায় হাঁটা | বারবার পেছন ফিরে দেখা আর হাঁটার গতি বাড়ানো |
এই রাউন্ডে অভিনেতা চাইলে দলের একজনকে সঙ্গী হিসেবে নিতে পারেন। একজন ভয় পাবে, আরেকজন ভূত সাজবে, আর দল অনুমান করবে পুরো দৃশ্যটা কী। দৃশ্যের নাম হুবহু না মিললেও মূল ভাবটা ঠিক বললে পয়েন্ট দিন, কারণ লম্বা বাক্য শব্দে শব্দে মেলানো কঠিন।
ভুতুড়ে পার্টি কীভাবে সাজাবেন?
- আলো ঠিক করুন: ঘরের বড় আলো নিভিয়ে একটা টেবিল ল্যাম্প অভিনেতার দিকে রাখুন। পুরো অন্ধকারে খেলা চলে না।
- দল বানান: “পেত্নী দল” আর “ব্রহ্মদত্যি দল”, নাম দিলেই খেলা শুরুর আগে হাসি।
- কার্ড মেশান: দেশি ভূত, হ্যালোউইন আর রূপকথা, তিন রকমই রাখুন।
- সময়: প্রতি পালা ৬০ সেকেন্ড, ছোটদের জন্য ৯০ সেকেন্ড।
- নিয়ম: কথা বলা যাবে না, ভয়ের শব্দও নয়। চিৎকার করার মুখ করা যাবে, আওয়াজ নয়।
- পুরস্কার: সবচেয়ে ভালো ভূতের অভিনয়ের জন্য “সেরা পেত্নী” খেতাব।
ছোটদের জন্য ভয়টা হালকা রাখবেন কীভাবে?
- শব্দ আগে দেখে নিন: আত্মা আহ্বান বা শ্মশানের মতো ভারী কার্ড ছোটদের সামনে বাদ দিন।
- মজার দিকটা তুলে ধরুন: মেছো ভূত, মমির ব্যান্ডেজ খোলা আর ভয় পেয়ে চিৎকারের মতো হাসির কার্ড বেশি রাখুন।
- ভূতের সাজ হাসির রাখুন: কালি দিয়ে মুখে গোঁফ বা পুরনো চাদরের ভূত, রক্তমাখা সাজের দরকার নেই।
- কেউ ভয় পেলে থামুন: একটা ছোট্ট বাচ্চাও অস্বস্তি বোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে আলো জ্বালিয়ে অন্য রাউন্ডে চলে যান।
- শেষটা খুশির রাখুন: খেলা শেষ করুন ভূতের রাজার বর দেওয়ার মতো মজার কার্ড দিয়ে।
ভয়ের সিনেমা নিয়ে আরও কার্ড চাইলে ডাম শারাডস সিনেমার নাম তালিকায় ভূতের ছবির অংশটা দেখুন।