নববর্ষের ডাম শারাডস: থার্টি ফার্স্ট নাইট পার্টির আইডিয়া
নববর্ষের ডাম শারাডস হলো থার্টি ফার্স্ট নাইটের সেরা ঘরোয়া খেলা। মজার শব্দ, নতুন সংকল্প, আর শেষে ১০ মিনিটের দ্রুত রাউন্ড, যা রাত ১২টায় শেষ হয়। রাতের খাবারের পর শুরু করুন। পহেলা বৈশাখের জন্য বোনাস শব্দও আছে। সব বয়স খেলতে পারে।
তাহলে কয়েকটা রাউন্ড খেলে ঠিক সময়ে কাউন্টডাউনে পৌঁছানো যায়।
বাঙালি কেন দুবার নববর্ষ পালন করে?
বাঙালির ক্যালেন্ডারে নতুন বছর আসে দুবার। ৩১ ডিসেম্বরের রাত, যাকে সবাই থার্টি ফার্স্ট নাইট বলে, শহরের বন্ধুদের আড্ডা আর ছাদের পার্টির রাত। আর এপ্রিলের মাঝামাঝি পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ, যখন লাল-সাদা পোশাকে মেলা, হালখাতা আর পান্তা-ইলিশের উৎসব হয়।
দুই উৎসবেই একটা জিনিস মেলে: পরিবার আর বন্ধুরা অনেকক্ষণ একসাথে থাকে। ঠিক এই সময়টাতেই ডাম শারাডস সবচেয়ে ভালো জমে, কারণ এতে কোনো সরঞ্জাম লাগে না আর বয়সের পার্থক্য কোনো বাধা নয়। টিভির অনুষ্ঠান বা ফোনের চেয়ে এই খেলায় সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে, আর সেটাই নতুন বছর শুরুর সবচেয়ে সুন্দর উপায়।
থার্টি ফার্স্ট নাইটের পার্টির সেরা শব্দ কোনগুলো?
পার্টি নাইট ডেকের নমুনা থেকে বাছাই করা কার্ড, সব পরিবারের উপযোগী:
| কার্ড | অভিনয়ের টিপস | কঠিনতা |
|---|---|---|
| পার্টি টুপি | মাথায় শঙ্কু আকারের টুপি পরে ফিতা থুতনিতে বাঁধা | সহজ |
| গ্রুপ সেলফি | ফোন উঁচু করে ধরে সবাইকে কাছে ডাকা, তারপর হাসি | সহজ |
| রঙিন লাইট | আঙুল খুলে-বন্ধ করে আলো জ্বলা-নেভা দেখানো | সহজ |
| ডিজে | এক কানে হেডফোন চেপে অন্য হাতে রেকর্ড ঘোরানো | সহজ |
| রাতভর মুভি দেখা | সোফায় বসে পপকর্ন খাওয়া, তারপর ঢুলতে ঢুলতে ঘুম | সহজ |
| গ্রুপ ছবির কাউন্টডাউন | আঙুলে তিন, দুই, এক দেখিয়ে সবাই পোজ দেওয়া | মাঝারি |
| লিম্বো প্রতিযোগিতা | পেছনে হেলে নিচু লাঠির তলা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা | মাঝারি |
| ক্যারাওকে দ্বৈত গান | দুজনে এক মাইক ভাগ করে নিঃশব্দে আবেগী গান | মাঝারি |
| মানব পিরামিড | কয়েকজন মিলে হাঁটু গেড়ে একজনের উপর আরেকজন, সাবধানে | কঠিন |
| বোর্ড গেম নিয়ে ঝগড়া | ছক্কার দান নিয়ে দুজনের নিঃশব্দ তর্ক, বোর্ড উল্টে দেওয়ার ভান | মাঝারি |
বেসুরো গানের কার্ডটা প্রায় সব পার্টিতে সেরা হাসি আনে। নিঃশব্দে চোখ বন্ধ করে প্রাণ ঢেলে গাওয়ার ভান করুন, আর দলের বাকিরা কানে হাত চাপা দিক।
নতুন বছরের সংকল্প কীভাবে অভিনয় করবেন?
এই রাউন্ডটা থার্টি ফার্স্ট নাইটের নিজস্ব। প্রত্যেকে একটা সংকল্প চিরকুটে লিখে বাক্সে ফেলবে, তারপর অন্য কেউ তুলে সেটা অভিনয় করবে। নিচের আইডিয়াগুলো সাধারণ উদাহরণ:
- ভোরে উঠে হাঁটা: অ্যালার্ম বন্ধ করে উঠে জুতো পরা, তারপর কুয়াশা দেখে আবার লেপের নিচে।
- ফোন কম দেখা: ফোন ড্রয়ারে রেখে দেওয়া, কিন্তু চোখ বারবার ড্রয়ারের দিকে।
- জিমে ভর্তি হওয়া: ভারী ওজন তুলতে গিয়ে কোমরে হাত দিয়ে বসে পড়া।
- নতুন ডায়েরি লেখা: প্রথম পাতায় যত্ন করে নাম লেখা, তারপর দ্বিতীয় পাতা চিরকাল ফাঁকা।
- মিষ্টি কম খাওয়া: রসগোল্লা দেখে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, তারপর চুপিচুপি একটা তুলে নেওয়া।
- বাংলা বই পড়া: বই খুলে বসা, তারপর বইয়ের উপর মাথা রেখে ঘুম।
সংকল্প রাউন্ডের আসল মজা হলো, সবাই জানে কোন সংকল্পটা কার লেখা। তবে কাউকে নাম ধরে খোঁচা না দিয়ে হাসিটা হালকা রাখুন।
শীতের রাতের কিছু দেশি শব্দ
৩১ ডিসেম্বর মানে বাঙালির ভরা শীত। শীত ডেকের কয়েকটা কার্ড ছাদের পার্টির সাথে দারুণ মানায়: লেপ, মাফলার, কুয়াশা, হাতে ফুঁ দেওয়া, গায়ে চাদর জড়ানো আর তিনটে চাদর গায়ে দেওয়া। ছাদে খেললে অভিনেতা যখন সত্যিই কাঁপছেন, তখন “হাতে ফুঁ দেওয়া” দেখানো সবচেয়ে সহজ।
শীতের রাউন্ডে কয়েকটা দেশি খাবারের দৃশ্যও রাখতে পারেন। শীত ডেকের নমুনায় খেজুরের রস আর গ্রামের শীতের পিঠা উৎসব দুটোই আছে। পিঠা দেখাতে দুই হাতের তালুতে গোল করে গড়ুন, তারপর গরম গরম মুখে দিয়ে ফুঁ দিন। খেজুরের রস দেখাতে গাছে উঠে হাঁড়ি নামানোর ভঙ্গি করুন।
নববর্ষের ডাম শারাডসে কাউন্টডাউন রাউন্ড কীভাবে চালাবেন?
বছরের শেষ দশ মিনিটে খেলার গতি বাড়িয়ে দিন। এটাই রাতের সবচেয়ে উত্তেজনার অংশ।
- সময় ঠিক করুন: রাত ১১টা ৫০ মিনিটে কাউন্টডাউন রাউন্ড শুরু।
- পালা ছোট করুন: প্রতি পালা মাত্র ৩০ সেকেন্ড।
- দ্রুত বদল: উত্তর ঠিক হলেই সাথে সাথে পরের কার্ড। পাস করা যাবে, তবে পাসে কোনো পয়েন্ট নেই।
- দ্বিগুণ পয়েন্ট: শেষ দুই মিনিটে প্রতিটা ঠিক উত্তরে দুই পয়েন্ট।
- ঘড়ি দেখান: একজন টিভি বা ফোনের ঘড়ি দেখে শেষ দশ সেকেন্ড জোরে গুনবেন।
- বারোটায় থামুন: ঠিক বারোটা বাজলে খেলা শেষ, এগিয়ে থাকা দল নতুন বছরের প্রথম বিজয়ী।
পয়েন্ট গোনা আর দল ভাগের আরও নিয়ম জানতে ডাম শারাডস পয়েন্ট ও দল ভাগ দেখে নিন।
পহেলা বৈশাখের বোনাস রাউন্ড কেমন হবে?
এপ্রিলে বাংলা নববর্ষের দিন এই খেলাটা আবার ফিরিয়ে আনুন, শুধু শব্দগুলো বদলে। ছুটির দিন ডেকের নমুনায় আছে পহেলা বৈশাখ, এসো হে বৈশাখ গান আর আলপনা আঁকা। বাকিগুলো ডেকের নমুনায় নেই, তবে সবার চেনা:
| শব্দ | কীভাবে দেখাবেন |
|---|---|
| এসো হে বৈশাখ গান | হাত দিয়ে কাউকে ডেকে আনা, তারপর মাইক ধরে গাওয়ার ভঙ্গি |
| আলপনা আঁকা | মাটিতে বসে আঙুল দিয়ে গোল নকশা আঁকা |
| পান্তা-ইলিশ | মাটির সানকিতে ভাতে পানি ঢালা, তারপর মাছের কাঁটা বাছা |
| মঙ্গল শোভাযাত্রা | মাথার উপর বড় মুখোশ তুলে মিছিলে হাঁটা |
| হালখাতা | দোকানে লাল খাতা খুলে হিসাব লেখা, অতিথিকে মিষ্টি দেওয়া |
| বৈশাখী মেলা | নাগরদোলায় চড়া আর মাটির পুতুল কেনা |
পশ্চিমবঙ্গের পাঠকেরা চাইলে হালখাতার সাথে নতুন জামা আর মিষ্টির দোকানের লাইনও যোগ করতে পারেন। বৈশাখী রাউন্ডে বাড়ির বড়রা সাধারণত সবচেয়ে এগিয়ে থাকেন, কারণ পুরনো দিনের মেলার স্মৃতি তাঁদেরই বেশি।
পার্টি জমানোর ছোট কিছু টিপস
- অতিথি বেশি হলে: তিন দল বানান, আর প্রতি দলে অন্তত একজন যে নিয়ম ভালো জানে।
- ছোটরা জেগে থাকলে: এগারোটার আগে তাদের সহজ রাউন্ড আগে খেলিয়ে নিন।
- প্রতিবেশীর কথা ভাবুন: খেলাটা নিঃশব্দ হলেও হাসি আর হাততালি জোরে হয়, তাই অনেক রাতে ছাদে খেললে আওয়াজ একটু সামলে রাখুন।
- কার্ড আগে থেকে তৈরি রাখুন: পার্টির মাঝে চিরকুট লেখার ঝামেলা না চাইলে ফোনে ডেক খুলে খেলুন, বা অনলাইনে বিনামূল্যে খেলুন।