ডাম শারাডস খেলার নিয়ম: হাতের সংকেতসহ সম্পূর্ণ গাইড
ডাম শারাডস খেলার নিয়ম খুব সহজ: অভিনেতা কোনো কথা বলবে না, শুধু অভিনয় আর হাতের সংকেতে শব্দটা বোঝাবে। তার নিজের দল এক মিনিটে অনুমান করবে। ঠিক হলে এক পয়েন্ট, নিয়ম ভাঙলে সেই চিরকুট বাতিল। বাকি সব ঘরোয়া নিয়ম, খেলার আগে ঠিক করুন।
যেমন কোন সিনেমা চলবে, বা পাস করা যাবে কি না।
ডাম শারাডস খেলার নিয়ম: মূল কথাগুলো কী কী?
- কমপক্ষে তিনজন খেলোয়াড়, দুই দলে খেললে চারজন বা বেশি।
- প্রতিপক্ষ চিরকুট লেখে। প্রতিটা দল অন্য দলের জন্য শব্দ বা নাম লিখে ভাঁজ করে রাখে।
- অভিনেতা একা চিরকুট পড়ে, দলের কাউকে দেখায় না।
- সময় বাঁধা। সাধারণত এক চিরকুটে ৬০ সেকেন্ড, সিনেমা বা গানের লম্বা নামে ৯০ সেকেন্ড।
- কথা একদম বন্ধ। কোনো শব্দ, গুনগুন বা ঠোঁট নাড়া চলবে না।
- শুধু নিজের দল অনুমান করবে। প্রতিপক্ষ উত্তর বলে দিলে তারা কোনো পয়েন্ট পায় না, বরং অনেক দল সেই পয়েন্ট অভিনেতার দলকেই দেয়।
- হুবহু উত্তর লাগবে। “চারুলতা” না বলে শুধু “চারু” বললে হবে না, যদি না দল আগে থেকে ছাড় দিতে রাজি থাকে।
- পালা ঘুরবে। প্রতিবার দলের নতুন সদস্য অভিনয় করবে।
একদম নতুন হলে আগে ডাম শারাডস কীভাবে খেলে পড়ে নিন, সেখানে প্রথম খেলার ধাপগুলো সহজ করে বলা আছে।
বিষয় বোঝানোর হাতের সংকেত কোনগুলো?
অভিনয় শুরুর আগে প্রথম কাজ হলো বিষয়টা জানানো। এতে দলের মাথা সঠিক দিকে ঘুরে যায়।
| বিষয় | সংকেত | উদাহরণ |
|---|---|---|
| সিনেমা | এক হাত চোখের সামনে গোল করে ধরে, অন্য হাতে পুরনো ক্যামেরার হাতল ঘোরানো | চারুলতা, পিকে |
| গান | মুখ থেকে হাত বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া, যেন গাইছেন | তুমি রবে নীরবে |
| বই বা গল্পের চরিত্র | দুই হাতের তালু জোড়া করে বই খোলা | ফেলুদা, ঘনাদা |
| টিভি নাটক বা শো | দুই আঙুলে বাতাসে চৌকো টিভি আঁকা | ইত্যাদি, কোথাও কেউ নেই |
| মঞ্চনাটক | দুই হাতে পর্দা সরানোর ভঙ্গি | যেকোনো নাটকের নাম |
| প্রবাদ বা উক্তি | দুই হাতের আঙুলে বাতাসে উদ্ধৃতিচিহ্ন | বিখ্যাত সংলাপ |
এই উদাহরণগুলো আমাদের সিনেমা, গান, বই আর টিভি শো ডেকে আছে। প্রতিটা সংকেতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাবেন হাতের সংকেতের গাইডে।
শব্দ আর মাত্রা গোনার নিয়ম কী?
বড় নাম একবারে বোঝানো কঠিন, তাই ভেঙে ভেঙে দেখানোর নিয়ম আছে:
- মোট শব্দ: যতগুলো শব্দ, ততগুলো আঙুল তুলুন। “হীরক রাজার দেশে” মানে তিন আঙুল।
- কোন শব্দ দেখাচ্ছেন: আবার আঙুল তুলুন। দুই আঙুল মানে দ্বিতীয় শব্দ।
- মাত্রা বা সিলেবল: এক হাতের আঙুল অন্য হাতের কবজির ওপর রাখুন। কটা আঙুল, কটা মাত্রা।
- শুনতে মিল আছে: কানের পেছনে হাত রাখুন, তারপর মিলের শব্দটা অভিনয় করুন।
- পুরোটা একসাথে: দুই হাতে বড় বৃত্ত এঁকে বোঝান, এবার পুরো নামটা দেখাচ্ছেন।
- ঠিক হয়েছে: নাকে আঙুল ছুঁইয়ে অনুমানকারীর দিকে দেখান।
চিরকুটে কী লেখা চলবে, কী চলবে না?
প্রতিপক্ষকে আটকাতে গিয়ে অনেকে এমন চিরকুট লেখে যা কেউই অভিনয় করতে পারবে না। তাতে খেলা থেমে যায়। ভালো চিরকুটের কয়েকটা নিয়ম:
- সবাই চেনে এমন নাম লিখুন। দলের অন্তত অর্ধেক মানুষ যেটা জানে না, সেটা বাদ দিন। “মীনা কার্টুন” বা “কোথাও কেউ নেই” প্রায় সব বয়সের বাঙালি চেনে।
- একটা চিরকুটে একটাই উত্তর। “ফেলুদা অথবা ব্যোমকেশ” লেখা চলবে না।
- খুব লম্বা লাইন এড়িয়ে চলুন। গানের পুরো স্তবক নয়, শুধু শুরুর লাইন বা পরিচিত নাম, যেমন “বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর”।
- পরিবারের উপযোগী রাখুন। ঘরে ছোটরা থাকলে এমন কিছু লিখবেন না যা অভিনয় করতে অস্বস্তি হয়।
- বানান পরিষ্কার লিখুন। অভিনেতা চিরকুট পড়তে না পারলে সময় নষ্ট, আর ভুল পড়লে পুরো দল ভুল দিকে যায়।
কোনগুলো নিয়মভঙ্গ বলে ধরা হয়?
- মুখে কোনো শব্দ করা, এমনকি “হুম” বা শিস দেওয়াও
- ঠোঁট নেড়ে শব্দ বোঝানো
- ঘরের কোনো জিনিসের দিকে আঙুল তুলে সরাসরি উত্তর বলে দেওয়া, যেমন “দরজা” চিরকুটে দরজা দেখানো
- বাতাসে বা হাতের তালুতে অক্ষর লেখা
- চিরকুট দলের কাউকে দেখিয়ে ফেলা
নিয়ম ভাঙলে সেই চিরকুটের পয়েন্ট বাতিল। ইচ্ছে করে বারবার ভাঙলে এক পয়েন্ট কেটে নেওয়ার নিয়মও রাখতে পারেন। কথা বলা নিয়ে আরও খুঁটিনাটি প্রশ্নের উত্তর আছে ডাম শারাডসে কথা বলা যায় কি না লেখায়।
বাঙালি আড্ডায় কোন ঘরোয়া নিয়মগুলো আগে ঠিক করবেন?
ঢাকার ঈদের আড্ডা হোক বা কলকাতার পুজোর ছুটি, খেলা শুরুর আগে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলিয়ে নিন:
| প্রশ্ন | সাধারণ সমাধান |
|---|---|
| বাংলা, হিন্দি আর হলিউড সিনেমা সব চলবে? | সবাই চিনবে এমন নাম হলে চলবে, অচেনা বিদেশি সিনেমা বাদ |
| রবীন্দ্রসংগীত কি “গান” হিসেবে চলবে? | অবশ্যই, যেমন “তুমি রবে নীরবে” বা “আমার সোনার বাংলা” |
| টিভি নাটক আর সিরিয়াল কি আলাদা বিষয়? | দুটোই টিভির সংকেতে দেখানো হবে |
| গল্পের চরিত্র কি “বই” ধরা হবে? | হ্যাঁ, ফেলুদা বা হাঁদা ভোঁদা বইয়ের সংকেতে |
| একবার পাস করা যাবে? | প্রতি দলে খেলায় একটা পাস রাখলে মজা বাড়ে |
দুই দলের তর্ক কীভাবে মেটাবেন?
ডাম শারাডসে সবচেয়ে বেশি ঝগড়া হয় তিনটি জিনিস নিয়ে: উত্তর কি যথেষ্ট কাছাকাছি ছিল, অভিনেতা কি ঠোঁট নেড়েছিল, আর সময় কি সত্যিই শেষ হয়েছিল। সহজ সমাধান:
- একজন বিচারক রাখুন যে কোনো দলে নেই, বা দুই দলের বড় দুজন মিলে সিদ্ধান্ত দিন।
- টাইমার সবার সামনে রাখুন, যাতে সময় নিয়ে সন্দেহ না থাকে।
- কাছাকাছি উত্তরের নিয়ম আগে বলুন। যেমন, বানান বা বিভক্তির ছোট পার্থক্য চলবে, শব্দ বাদ পড়লে চলবে না।
- বিতর্কিত চিরকুট বাতিল করুন। দুই দলই রাজি না হলে চিরকুটটা আবার বাটিতে ফেরত যাক।
- সমান পয়েন্ট হলে টাইব্রেকার। দুই দল থেকে একজন করে এক মিনিটে একই বিষয়ের চিরকুট অভিনয় করবে। যে দল কম সময়ে ধরতে পারে, তারাই জয়ী। ক্রিকেটের সুপার ওভারের মতো, শেষ মুহূর্তের এই উত্তেজনাই অনেক সময় পুরো সন্ধ্যার সেরা স্মৃতি হয়ে থাকে।
নিয়ম যত পরিষ্কার, খেলা তত মসৃণ। আর মনে রাখবেন, আসল উদ্দেশ্য জেতা নয়, সবাই মিলে হাসা।