গানের ডাম শারাডস: অভিনয় করে বোঝানোর মতো জনপ্রিয় গান
গানের ডাম শারাডসে সবচেয়ে ভালো কাজ করে এমন গান, যার প্রথম লাইন সবার মুখস্থ আর শব্দগুলো ছবির মতো দেখানো যায়। আমার সোনার বাংলা, একলা চলো রে, চল চল চল আর কল হো না হো দিয়ে শুরু করুন। নিচে বিষয় ধরে তালিকা আর লাইন বোঝানোর কৌশল দেওয়া হলো।
গানের ডাম শারাডসে গান কীভাবে ইশারায় বোঝাবেন?
গানের কার্ড এলে প্রথমেই দলকে জানাতে হবে এটা গান, সিনেমা নয়। মুখের কাছ থেকে দুই হাত বাইরে মেলে দিন, যেন মঞ্চে গাইছেন, অথবা মুঠো করে মাইক ধরার ভঙ্গি করুন।
- গানের সংকেত: গাওয়ার মতো দুই হাত মেলে দেওয়া বা মাইক ধরা।
- শব্দ গোনা: যতগুলো শব্দ, ততগুলো আঙুল দেখান।
- একটা একটা শব্দ: সবচেয়ে দেখানো সহজ শব্দটা দিয়ে শুরু করুন। “একলা চলো রে” হলে এক আঙুল তুলে একা হাঁটুন।
- শুনতে মিল: কঠিন শব্দের জন্য কানে হাত দিয়ে বোঝান যে মিল আছে এমন শব্দ দেখাচ্ছেন।
- শেষে মিলিয়ে নিন: দুই হাত গোল করে ঘুরিয়ে বোঝান, এবার পুরো লাইন একসাথে বলো।
এই সংকেতগুলো বিস্তারিত জানতে ডাম শারাডস ইশারা গাইডটা দেখে নিতে পারেন।
রবীন্দ্রসংগীত আর নজরুলগীতি থেকে কোন গান রাখবেন?
বাঙালির আড্ডায় রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের গান ছাড়া গানের রাউন্ড অসম্পূর্ণ। গান গাও ডেকের নমুনায় একলা চলো রে, তুমি রবে নীরবে, চল চল চল, আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে, মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, এসো নীপবনে আর মম চিত্তে নিতি নৃত্যে আছে।
| গান | অভিনয়ের টিপস | কঠিনতা |
|---|---|---|
| একলা চলো রে | এক আঙুল তুলে একা একা দৃঢ় পায়ে হাঁটা | সহজ |
| চল চল চল | জায়গায় দাঁড়িয়ে মার্চ করা, হাত দিয়ে সামনে ডাকা | সহজ |
| তুমি রবে নীরবে | কাউকে দেখিয়ে ঠোঁটে আঙুল রেখে চুপ থাকার ইশারা | মাঝারি |
| মেঘের কোলে রোদ হেসেছে | হাত দিয়ে মেঘ আঁকা, তারপর মুখে বড় হাসি দিয়ে রোদ বোঝানো | মাঝারি |
| এসো নীপবনে | হাত দিয়ে ডাকা, তারপর গাছ আর বৃষ্টি দেখানো | কঠিন |
| মম চিত্তে নিতি নৃত্যে | বুকে হাত রেখে তারপর নাচের ভঙ্গি | কঠিন |
কঠিন গানগুলো অভিজ্ঞ দলের জন্য রাখুন। নতুনদের সাথে প্রথম তিনটা দিয়েই খেলা জমে যায়।
দেশের গান ও একুশের গান কোনগুলো সবাই চেনে?
একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসের আশেপাশে দেশের গানের রাউন্ড খুব জমে। গান ডেকের নমুনায় আছে আমার সোনার বাংলা, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, আমি বাংলায় গান গাই, ধিতাং ধিতাং বলে আর জাগো জাগো বাংলাদেশ।
- আমার সোনার বাংলা: দুই হাত বুকে রেখে ভালোবাসা দেখান, তারপর মাটি ছুঁয়ে দেশ বোঝান।
- আমি বাংলায় গান গাই: নিজেকে দেখিয়ে মাইক ধরার ভঙ্গি।
- ধিতাং ধিতাং বলে: কাঁধে ঢোল ঝুলিয়ে বাজানোর ভঙ্গি, এটা প্রায় সবাই সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলে।
- মুক্তির মন্দির সোপানতলে: সিঁড়ি বেয়ে ওঠার ভঙ্গি আর হাত জোড় করে শ্রদ্ধা।
এই গানগুলোর সাথে অনেকের আবেগ জড়িয়ে আছে, তাই অভিনয়ে মজা করুন কিন্তু ঠাট্টা নয়।
লোকগান আর বাংলা ব্যান্ডের গান কীভাবে রাখবেন?
গ্রামবাংলার লোকগান আর শহরের ব্যান্ড সংগীত, দুটোই বাঙালির গানের রাউন্ডে আলাদা স্বাদ আনে। গান গাও ডেকে মন মাঝি রে আর সব সখীরে পার করিতে আছে, গান ডেকে আছে আমায় ভাসাইলি রে আর রাধারমণের গান।
লোকগানের জন্য টিপস:
- নৌকা বাওয়ার ভঙ্গি করলে মাঝি বা নদী নিয়ে গান সহজে ধরা পড়ে।
- একতারা বাজানোর ভঙ্গি করলে দল বোঝে এটা বাউল ধাঁচের গান।
বাংলা ব্যান্ড: ব্যান্ড ডেকের নমুনায় মাইলস, ফসিলস, লক্ষ্মীছাড়া আর নেমেসিসের মতো নাম আছে, সাথে দ্য বিটলস আর কোল্ডপ্লে। ব্যান্ডের নাম দেখাতে প্রথমে গিটার বাজান, তারপর নামের শব্দ ভাঙুন। যেমন মাইলস দেখাতে দূরে দূরে রাস্তা মাপার ভঙ্গি করা যায়।
বাদ্যযন্ত্র নিয়ে একটা ছোট বোনাস রাউন্ডও চালাতে পারেন: ঢোল, তবলা, হারমোনিয়াম, দোতারা আর বাঁশির সুর বাদ্যযন্ত্র ডেকের নমুনাতেই আছে, আর এগুলো ছোটরাও সহজে দেখাতে পারে।
ছোটদের জন্য কোন গান সহজ?
বাচ্চারা গানের রাউন্ডে থাকলে এমন গান বাছুন যার শব্দগুলো সরাসরি ছবির মতো দেখানো যায়। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ: আঙুল নাড়িয়ে উপর থেকে বৃষ্টি নামান, তারপর মাথার উপর হাত রেখে টুপটাপ শব্দ বোঝান। প্রায় প্রতিটা বাঙালি শিশু এই ছড়া গানটা চেনে।
- হ্যাপি বার্থডে গান: কেক কাটার ভঙ্গি আর মোমবাতিতে ফুঁ। জন্মদিন ডেকের এই কার্ডটা ছোটরা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ধরে।
- আতা গাছে তোতা পাখি: গাছ দেখিয়ে তারপর হাত দিয়ে পাখির ঠোঁট বানান।
- চল চল চল: মার্চ করতে বাচ্চারা ভালোবাসে, তাই এটা ছোটদের পালায় রাখুন।
ছোটদের পালায় সময় একটু বাড়িয়ে দিন আর বড়রা যেন কাছাকাছি উত্তরেও উৎসাহ দেন।
হিন্দি হিট দিয়ে বোনাস রাউন্ড কেমন হয়?
বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গ দুই জায়গার বিয়েবাড়ি আর পার্টিতে হিন্দি গান চলে, তাই শেষে একটা বোনাস রাউন্ড রাখুন। গান ডেক আর গান গাও ডেকের নমুনা থেকে কয়েকটা:
| গান | কীভাবে দেখাবেন |
|---|---|
| কল হো না হো | হাত দিয়ে আগামীকাল বোঝাতে সামনে ইশারা, তারপর কাঁধ ঝাঁকিয়ে অনিশ্চয়তা |
| জয় হো | দুই হাত মাথার উপর তুলে জয়ের উল্লাস |
| ঝুমকা গিরা রে | কানের দুল খুলে পড়ে যাওয়ার ভঙ্গি, তারপর মাটিতে খোঁজা |
| কালা চশমা | চোখে কল্পিত সানগ্লাস পরে স্টাইল দেখানো |
| লুঙ্গি ড্যান্স | লুঙ্গির গিঁট বাঁধার ভঙ্গি আর নাচ |
| গেরুয়া | কমলা ছোলার ভঙ্গি করে রং বোঝানো, তারপর দুই হাত মেলে ঘুরে ঘুরে নাচ |
এই রাউন্ডে সাধারণত সবচেয়ে বেশি হাসি হয়, বিশেষ করে যখন বাড়ির বড়রা কালা চশমার স্টাইল দেখান।
গানের রাউন্ড কতক্ষণ আর কীভাবে চালাবেন?
- সময়: প্রতি পালায় ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ড। রবীন্দ্রসংগীতের মতো লম্বা লাইনের জন্য ৯০ সেকেন্ড ভালো।
- দল: দুই দলে ভাগ হয়ে পালা করে খেলুন, প্রতি ঠিক উত্তরে এক পয়েন্ট।
- গান গাওয়ার রাউন্ড: চাইলে একটা আলাদা রাউন্ডে কথা ছাড়া শুধু গুনগুন করার অনুমতি দিন, এটা ক্লাসিক নিয়মের বাইরে একটা মজার ঘরোয়া ছাড়।
- গান মেলানো: দল ঠিক নাম বললে পুরো দল মিলে প্রথম লাইনটা গেয়ে ফেলুন, আড্ডার আসল আনন্দ ওখানেই।
গান ছাড়াও সিনেমা নিয়ে খেলতে চাইলে ডাম শারাডস সিনেমার নাম তালিকাটা কাজে দেবে।