বাচ্চাদের ডাম শারাডস: বয়স অনুযায়ী সহজ শব্দ ও আইডিয়া
বাচ্চাদের ডাম শারাডসে বয়স অনুযায়ী শব্দ বাছুন: তিন থেকে পাঁচ বছরে প্রাণী আর খেলার কাজ, ছয় থেকে আট বছরে কার্টুন আর ছড়া, নয় থেকে বারো বছরে দেশি খেলা আর মজার পরিস্থিতি। সময় বেশি দিন, পয়েন্ট কাটবেন না, আর প্রতিটা ঠিক উত্তরে হাততালি।
বাচ্চাদের ডাম শারাডসের নিয়ম কীভাবে বোঝাবেন?
বড়দের পুরো নিয়মের তালিকা শিশুদের মাথায় ঢোকে না। তিনটি কথা বললেই হয়:
- “মুখে কিছু বলবে না, শুধু করে দেখাবে।” বলেই একবার নিজে দেখিয়ে দিন, যেমন চুপচাপ বিড়াল হয়ে হামাগুড়ি।
- “বাকিরা জোরে জোরে আন্দাজ করবে।”
- “ঠিক হলে সবাই হাততালি দেবে।”
হাতের সংকেত, শব্দ গোনা, এগুলো আট বছরের পর ধীরে ধীরে যোগ করুন। যারা পড়তে পারে না, তাদের চিরকুটে শব্দের বদলে ছবি আঁকুন বা কানে কানে বলে দিন।
৩ থেকে ৫ বছরের জন্য কোন শব্দ?
এই বয়সে শব্দ হবে এমন কিছু যা শিশু রোজ দেখে বা করে।
| শব্দ | ডেক | কীভাবে দেখাবে |
|---|---|---|
| কুকুর | প্রাণী | চার হাত-পায়ে হেঁটে জিভ বের করা |
| সাপ | প্রাণী | মেঝেতে শুয়ে এঁকেবেঁকে চলা |
| খরগোশ | প্রাণী | মাথায় দুই আঙুলের কান, লাফিয়ে লাফিয়ে চলা |
| বল খেলা | বাচ্চাদের জন্য | বল ছুড়ে আবার ধরা |
| দোলনায় দোলা | বাচ্চাদের জন্য | দুই হাতে দড়ি ধরে সামনে-পেছনে দোলা |
| বাবল ফোলানো | বাচ্চাদের জন্য | কাঠি মুখের সামনে ধরে ফুঁ দেওয়া |
| চাঁদমামা টিপ দিয়ে যাও | ছড়া | আকাশের দিকে আঙুল, তারপর কপালে টিপ |
৬ থেকে ৮ বছরের জন্য কোন শব্দ?
এই বয়সের বাচ্চারা কার্টুনের চরিত্র আর ছড়া খুব ভালো চেনে। আমাদের কার্টুন ডেক আর ছড়ার ডেক থেকে:
- ডোরেমন: পেটের সামনে হাত দিয়ে পকেট, তা থেকে কিছু বের করার ভান।
- নোবিতা: চোখে গোল চশমা, হাতে শূন্য পাওয়া পরীক্ষার খাতা, কাঁদো কাঁদো মুখ।
- বেন টেন: কবজির ঘড়িতে চাপ দিয়ে হঠাৎ দানব হয়ে যাওয়া।
- পেপা পিগ: নাক ঠেলে শূকরের নাক বানিয়ে কাদায় লাফানো।
- ছোটা ভীমের ঢোল বাজানো: বুক ফুলিয়ে শক্তি দেখানো, তারপর ঢোল বাজানো।
- হাট্টিমাটিম টিম: মাথায় দুই হাতে শিং বানিয়ে মাঠে ডিম পাড়ার ভান।
- খুকু ও কাঠবেড়ালি: দুই হাতে কিছু ধরে কুটকুট করে খাওয়া।
- আয় বৃষ্টি ঝেঁপে: দুই হাত ওপরে তুলে বৃষ্টি ডাকা।
৯ থেকে ১২ বছরের জন্য কোন শব্দ?
বড় শিশুরা চ্যালেঞ্জ চায়, আর দেশি খেলা ও মজার পরিস্থিতি তাদের সবচেয়ে প্রিয়। বাচ্চাদের জন্য ডেক থেকে:
| শব্দ | অভিনয়ের টিপ |
|---|---|
| কানামাছি ধরা | চোখ বাঁধা অবস্থায় হাত বাড়িয়ে অন্যদের খোঁজা |
| লাটাই সুতা ছাড়া | ওপরে তাকিয়ে লাটাই ঘুরিয়ে সুতা ছাড়া |
| গোল্লাছুট | এক খুঁটি ধরে ঘুরে হঠাৎ দৌড় |
| ডাংগুলি খেলা | ছোট কাঠি মেরে উড়িয়ে আবার মারা |
| পুকুরে সাঁতার শেখা | কেউ পেট ধরে রেখেছে, হাত-পা ছোড়া |
| দিদির সঙ্গে ঝগড়া | কোমরে হাত, জিভ ভেংচি, তারপর অভিমানে মুখ ঘোরানো |
| নতুন জামা পরে ঈদে যাওয়া | আয়নায় জামা দেখা, তারপর হাত বাড়িয়ে সালামি নেওয়া |
প্রাণী ডেকের মাঝারি শব্দগুলোও এই বয়সে দারুণ চলে: চিতা, নেউল, হামিংবার্ড, কিলার তিমি।
সব বাচ্চাকে খেলায় ধরে রাখবেন কীভাবে?
- কেউ যেন বাদ না পড়ে। প্রতিটা বাচ্চা অন্তত একবার অভিনয় করবে, লাজুক হলে একজন বড়ের সাথে জোড়ায়।
- পয়েন্ট নয়, হাততালি। ছোটদের দলে পয়েন্ট কাটার নিয়ম একদম রাখবেন না।
- ছোট রাউন্ড। পাঁচ-সাত রাউন্ড পরেই একটা বিরতি, নাস্তা, তারপর আবার।
- বড়রা দর্শক নয়, দলের সদস্য। মা-বাবা নিজে বোকা বোকা অভিনয় করলে শিশুরা সাহস পায়।
- দল মেশান। বড় ভাইবোন আর ছোটদের একই দলে রাখুন, যাতে বড়রা সাহায্য করে।
- নির্দিষ্ট করে প্রশংসা। শুধু “দারুণ” না বলে বলুন, “তোমার খরগোশের লাফটা একদম আসল লাগছিল”। তাতে শিশু বোঝে কোন অভিনয়টা ভালো হয়েছে।
- অপেক্ষা কম। একজনের পালা শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে পরের জন। অপেক্ষার সময় যত কম, ছোটদের মনোযোগ তত বেশি।
ছোটদের জন্য কোন মজার সংস্করণ খেলবেন?
একই খেলা বারবার খেললে ছোটদের মন উঠে যায়। মাঝে মাঝে নিয়ম একটু বদলে দিন:
- প্রাণীর মিছিল: একজন প্রাণী দেখাবে, যে প্রথম ধরবে সে-ও সেই প্রাণী হয়ে পেছনে হাঁটবে। শেষে পুরো ঘরে একটা চিড়িয়াখানা।
- ছড়ার রাউন্ড: শুধু ছড়া। ঠিক ধরলে সবাই মিলে ছড়াটা একবার জোরে বলবে, তাতে খেলার সাথে ছড়াও মুখস্থ হয়।
- মূর্তি রাউন্ড: অভিনেতা নড়তে পারবে না, শুধু একটা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকবে। যেমন বাঘ গর্জন করছে বা মা রান্না করছেন।
- বড়দের পালা: এক রাউন্ডে বাচ্চারা চিরকুট লিখবে বা ছবি আঁকবে, আর বড়রা অভিনয় করবে। বাবাকে বিড়াল হতে দেখার আনন্দ শিশুরা অনেক দিন মনে রাখে।
ঘরোয়া আসরের জন্য একটা নমুনা পরিকল্পনা
ছয় থেকে দশজন শিশুর জন্য কুড়ি মিনিটের একটা সহজ ক্রম:
| সময় | কী হবে |
|---|---|
| প্রথম ৩ মিনিট | নিয়ম বলা, একজন বড় নিজে বিড়াল হয়ে দেখাবেন |
| ৩ থেকে ১০ মিনিট | প্রাণীর রাউন্ড, প্রত্যেকে একবার করে |
| ১০ থেকে ১৫ মিনিট | কার্টুন আর ছড়ার রাউন্ড, দুই দলে |
| ১৫ থেকে ১৮ মিনিট | বড়দের পালা, বাচ্চারা চিরকুট দেবে |
| শেষ ২ মিনিট | সবার জন্য হাততালি আর ছোট্ট পুরস্কার, যেমন একটা করে লজেন্স |
কুড়ি মিনিটের বেশি টানবেন না। মন উঠে যাওয়ার আগেই থামলে পরের বার বাচ্চারা নিজেরাই খেলতে চাইবে।
খেলাটা কখন খেলবেন?
বাচ্চাদের জন্মদিন, ঈদ বা পুজোর ছুটিতে কাজিনদের আড্ডা, বৃষ্টির দিনে স্কুল বন্ধ, লম্বা লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা, সব সময়েই ডাম শারাডস চলে। কোনো সরঞ্জাম লাগে না, আর শিশুরা চোখের সামনে থেকে স্ক্রিন সরিয়ে শরীর নাড়িয়ে খেলে। বড়রা যোগ দিলে আরও ভালো, পুরো পরিবারের জন্য আইডিয়া পাবেন পরিবারের সাথে ডাম শারাডস লেখায়।