পরিবারের সাথে ডাম শারাডস: সব বয়সের জন্য খেলার আইডিয়া
পরিবারের সাথে ডাম শারাডস খেলতে প্রতি দলে প্রতিটি প্রজন্মের একজন রাখুন, আর এমন শব্দ বাছুন যা সব বয়স চেনে: প্রাণী, ঘরের খাবার, আত্মীয়ের নাম আর কার্টুন। দাদু-দাদি বসে অভিনয় করতে পারেন, ছোটরা পাবে বাড়তি সময়, আর হাসিকে বড় করে দেখুন।
যৌথ পরিবারের সন্ধ্যায় খেলা কীভাবে সাজাবেন?
ঈদের রাত, পুজোর নবমী বা শীতের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যখন পনেরো-বিশজন একসাথে, তখন ডাম শারাডসই সবচেয়ে সহজে সবাইকে এক জায়গায় আনে।
- বসার ঘর খালি করুন। মাঝখানে অভিনয়ের জায়গা, চারপাশে সবাই।
- দুই বা তিন দল বানান। প্রতি দলে একজন বড়, দুজন মাঝবয়সী, দুজন ছোট।
- বিচারক ঠিক করুন। বাড়ির সবচেয়ে বড় যিনি খেলতে চান না, তিনিই আদর্শ।
- চিরকুট আগে লিখে রাখুন। খেলার মাঝে শব্দ ভাবতে গেলে ছোটরা অস্থির হয়ে যায়।
- বিরতি রাখুন। তিন-চার রাউন্ড পর চা, মুড়ি-চানাচুর বা পিঠা।
আত্মীয়ের সম্পর্ক কীভাবে অভিনয় করবেন?
বাংলায় প্রায় প্রতিটা আত্মীয়ের জন্য আলাদা, নির্দিষ্ট নাম আছে। খালাতো বোন, মাসতুতো ভাই, জেঠাইমা, ননদ, শালী, প্রতিটা সম্পর্কের আলাদা নাম। আমাদের পরিবার ডেক এই মজাটাকেই খেলায় এনেছে:
| সম্পর্ক | কীভাবে বোঝাবেন |
|---|---|
| মা | দুই হাতে শিশুকে কোলে দোলানো |
| ঠাকুরদা | লাঠি হাতে ধীরে হাঁটা, চশমা ঠিক করা, তারপর বাবার দিকে আঙুল |
| খালাতো বোন | কোলে শিশু দুলিয়ে মা, তারপর “বোন” বোঝাতে দুই আঙুল পাশাপাশি, শেষে সেই বোনের মেয়ে |
| মাসতুতো ভাই | একই কৌশল, শেষে ছেলে বোঝাতে গোঁফে তা |
| জেঠাইমা | বাবার বড় ভাই বোঝাতে উঁচু হাত, তারপর তার স্ত্রী |
| নাতনি | ছোট্ট মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করা দাদির ভঙ্গি |
| দাদাভাই | বড় ভাইয়ের মতো কাঁধে হাত রেখে আগলে নেওয়া |
| সম্পর্কে কাকা হন | মাথা চুলকে আঙুলে হিসাব কষা, শেষে হাল ছেড়ে কাঁধ ঝাঁকানো |
শেষেরটা প্রতিটা পারিবারিক আসরের সবচেয়ে চেনা দৃশ্য, তাই হাসি নিশ্চিত।
ঘরের খাবারের কোন শব্দ সবাই ধরবে?
বাঙালির আড্ডা খাবার ছাড়া অসম্পূর্ণ, ডাম শারাডসও তাই। খাবার ডেক থেকে কিছু ঘরোয়া চিরকুট:
- ভাত: হাতে মেখে গোল করে মুখে তোলা।
- বেগুনি: বেগুনের ফালি বেসনে ডুবিয়ে গরম তেলে ছাড়া, তারপর ফুঁ দিয়ে খাওয়া।
- ভর্তা: হাতের তালুতে কিছু চটকে মাখা, ঝালে চোখ বড়।
- চিংড়ি মালাইকারি: দুই আঙুলে চিংড়ির শুঁড়, তারপর নারকেল কোরানো।
- এঁচোড়ের ডালনা: বড় কাঁঠাল কাটার কষ্ট, আঠা হাতে লেগে যাওয়া।
- রসগোল্লা: গোল মিষ্টি চিপে রস ঝরানো।
- রং চা: কাপে চামচ নেড়ে ফুঁ দিয়ে চুমুক।
ছোটদের প্রিয় কার্টুন আর প্রাণী কোনগুলো?
ছোটদের মন রাখতে প্রতি রাউন্ডে অন্তত একটা চিরকুট তাদের জগৎ থেকে দিন। কার্টুন ডেক থেকে ডোরেমন, নোবিতা, বেন টেন, পেপা পিগ, টুইটি, বাগস বানির গাজর। প্রাণী ডেক থেকে কুকুর, খরগোশ, পেঁচা, সাপ, শিম্পাঞ্জি। মজার ব্যাপার হলো, দাদি যখন “বাগস বানির গাজর” অভিনয় করতে গিয়ে খরগোশের মতো দাঁত বের করে গাজর চিবান, তখন সবচেয়ে জোরে হাসে নাতিরাই।
বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী আরও শব্দ পাবেন বাচ্চাদের ডাম শারাডস লেখায়।
মিশ্র বয়সের দলে কার কী ভূমিকা?
| বয়স | ভূমিকা | ছাড় বা নিয়ম |
|---|---|---|
| ৪ থেকে ৮ | প্রাণী আর কার্টুনের অভিনয় | বড় কেউ কানে কানে শব্দ বলে দেবে, সময় বেশি |
| ৯ থেকে ১৫ | নতুন সিনেমা, স্ল্যাং, খেলা | পুরো নিয়মে খেলবে |
| প্রাপ্তবয়স্ক | কঠিন চিরকুট, স্কোর রাখা | বিতর্কে শান্ত থাকা |
| দাদু-দাদি, নানা-নানি | পুরনো সিনেমা, গান, বিচারক | বসে অভিনয় করতে পারবেন |
পারিবারিক খেলায় কোন ঝামেলা হয়, আর সমাধান কী?
| ঝামেলা | সমাধান |
|---|---|
| ছোটরা পালা না পেয়ে অভিমান করছে | প্রতিটা রাউন্ডে আগে ছোটরা, তারপর বড়রা |
| দুই কাকা বিচারকের সিদ্ধান্ত মানছেন না | খেলার শুরুতেই বলে দিন, বিচারকের কথাই শেষ কথা |
| কেউ অভিনয় করতে লজ্জা পাচ্ছেন | জোড়ায় অভিনয়ের সুযোগ, বা প্রথমে স্কোরকিপারের দায়িত্ব |
| এক দল অনেক এগিয়ে গেছে | শেষ রাউন্ডে দ্বিগুণ পয়েন্ট রাখুন, যাতে সবার আশা থাকে |
| খেলা অনেক লম্বা হয়ে যাচ্ছে | আগে থেকে রাউন্ডের সংখ্যা ঠিক করুন |
পরিবারের নিজস্ব চিরকুট কীভাবে লিখবেন?
ডেকের শব্দের সাথে কয়েকটা চিরকুট নিজেদের পরিবার থেকেও লিখুন। এতে খেলাটা একান্ত আপনাদের হয়ে ওঠে:
- পরিবারের বিখ্যাত ঘটনা: যেমন “নানার বাড়ি যাওয়ার পথে লঞ্চ মিস” বা “দাদুর রেডিওতে খেলার ধারাভাষ্য শোনা”।
- বাড়ির প্রিয় রান্না: যেমন “মায়ের হাতের খিচুড়ি” বা “শীতের সকালে ভাপা পিঠা”।
- পুরনো পারিবারিক অভ্যাস: যেমন “সন্ধ্যায় সবাই মিলে টিভিতে নাটক দেখা”।
শুধু খেয়াল রাখুন, চিরকুট যেন কাউকে খোঁচা না দেয়। আর নতুন বউ বা জামাইয়ের মতো যাঁরা পরিবারে নতুন, তাঁরাও যেন অন্তত অর্ধেক চিরকুট চিনতে পারেন।
কোন উপলক্ষে পরিবারের সাথে ডাম শারাডস সবচেয়ে জমে?
- ঈদের দ্বিতীয় দিন: সালামি পাওয়ার পর কাজিনরা যখন একসাথে, তখন ঈদের খাবার আর সালামির চিরকুট দিয়ে খেলা। আরও আইডিয়া ঈদের ডাম শারাডস লেখায়।
- পুজোর ছুটি: নবমীর রাতে প্যান্ডেল থেকে ফিরে বাড়ির ছাদে।
- শীতের ছুটি: গ্রামের বাড়িতে লেপের তলায় বসে, পিঠা খেতে খেতে।
- বিয়েবাড়ির আগের রাত: দূরের আত্মীয়রা যখন একে অপরকে নতুন করে চিনছেন।
- লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা: মোমবাতি বা চার্জার লাইটের আলোয়, ফোন ছাড়াই।
- পহেলা বৈশাখ: মেলা থেকে ফিরে উঠোনে বা বারান্দায় বসে, পান্তা-ইলিশের পরের অলস দুপুরে।
- বর্ষার দুপুর: বৃষ্টিতে সবাই ঘরে আটকা, চুলায় খিচুড়ি চড়েছে, ঠিক তখনই এক রাউন্ড।
পারিবারিক খেলার আসল জয় হলো সেই মুহূর্ত, যখন সবচেয়ে গম্ভীর মামা হঠাৎ মুরগি হয়ে ডানা ঝাপটান। সেই স্মৃতি পরের অনেক ঈদ আর পুজো পর্যন্ত গল্প হয়ে থাকে।