ডাম শারাডসে কথা বলা যায়? শব্দ, ঠোঁট নাড়া আর ইশারার নিয়ম
ডাম শারাডসে কথা বলা যায় কি? না, অভিনেতা একটা শব্দও বলতে পারেন না। কোনো শব্দ, ফিসফিস, গুনগুন বা নিঃশব্দে ঠোঁট নাড়িয়ে শব্দ বলা সবই নিয়মের বাইরে। তবে মুখের ভাব, হাতের সংকেত আর মাথা নেড়ে হ্যাঁ-না বোঝানো চলে। অনুমানকারী দল অবশ্য যত খুশি কথা বলতে পারে।
কেন খেলাটার নামেই “ডাম”?
ইংরেজি “ডাম” শব্দের মানে নির্বাক। নামটাই বলে দিচ্ছে, খেলার মূল চ্যালেঞ্জ হলো কথা ছাড়া বোঝানো। কেউ যদি মুখে একটা শব্দও বলে দেয়, তাহলে খেলাটার আসল মজাটাই চলে যায়, কারণ তখন সেটা আর অভিনয় থাকে না, হয়ে যায় সাধারণ ধাঁধা।
এই কারণেই বাঙালি আড্ডায় সবচেয়ে বেশি তর্ক হয় এই নিয়ম নিয়ে: “ও তো ঠোঁট নাড়ল!” বা “ও তো হাসির শব্দ করল!” তাই খেলা শুরুর আগেই কী চলবে আর কী চলবে না, সেটা সবাইকে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া ভালো।
মজার ব্যাপার হলো, কথা বলার নিষেধটাই খেলাকে মজার করে। যে মামা সারাদিন কথা বলে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন, তিনি যখন মুখ বন্ধ রেখে “ইলিশ মাছ” দেখাতে গিয়ে হাত-পা ছুড়তে থাকেন, তখনই আসল হাসি। নিয়মটা কড়া রাখলে প্রত্যেকে নতুন করে শরীরের ভাষা আবিষ্কার করে।
ডাম শারাডসে কথা বলা যায় না, তাহলে কী কী করা যাবে?
| কাজ | চলবে? | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মুখে কোনো শব্দ বলা | না | সবচেয়ে বড় নিয়মভঙ্গ |
| নিঃশব্দে ঠোঁট নাড়িয়ে শব্দ বলা | না | দল ঠোঁট পড়ে ফেলতে পারে |
| গুনগুন করে সুর বোঝানো | না | গানের কার্ডেও ক্লাসিক নিয়মে নিষেধ |
| প্রাণীর ডাক বা অন্য আওয়াজ | না | ঘরোয়া ছাড় দেওয়া যায়, নিচে দেখুন |
| মুখের ভাব (হাসি, রাগ, ভয়) | হ্যাঁ | অভিনয়ের প্রাণ |
| মাথা নেড়ে হ্যাঁ বা না | হ্যাঁ | দলকে সঠিক পথে রাখতে দরকারি |
| আঙুলে শব্দ বা মাত্রা গোনা | হ্যাঁ | প্রচলিত সংকেত |
| ঘরের কোনো জিনিসের দিকে আঙুল তোলা | সাধারণত না | যেমন “টেবিল” কার্ডে টেবিল দেখিয়ে দেওয়া |
| বাতাসে অক্ষর লেখা | না | এটা লিখে বোঝানোর মতোই |
| নিজের শরীরের অংশ দেখানো | হ্যাঁ | যেমন “চোখ” বোঝাতে চোখ দেখানো |
সংকেতগুলোর পুরো তালিকা দেখতে ডাম শারাডস ইশারা গাইডটা কাজে আসবে।
ঠোঁট নাড়ানো আর মুখের ভাবের পার্থক্য কী?
এটাই সবচেয়ে সূক্ষ্ম জায়গা। মুখের ভাব দেখানো মানে আবেগ দেখানো: চোখ বড় করে অবাক হওয়া, ভুরু কুঁচকে রাগ, ঠোঁট টিপে হাসি চাপা। এগুলো পুরোপুরি বৈধ, বরং ভালো অভিনয়ের জন্য দরকারি।
ঠোঁট নাড়ানো মানে শব্দের আকারে ঠোঁট চালানো, যাতে দল পড়ে ফেলতে পারে “মা” বা “বাবা”। এটা নিষেধ। একটা সহজ পরীক্ষা: অভিনেতার মুখের নড়াচড়া দেখে কি কোনো নির্দিষ্ট শব্দ পড়া যাচ্ছে? যদি যায়, তাহলে সেটা নিয়মভঙ্গ।
গানের কার্ডে একটা ব্যতিক্রম প্রচলিত আছে: মুখ খুলে গাওয়ার ভঙ্গি করে বোঝানো যে এটা গান। তবে সেই ভঙ্গিতে গানের কথা পড়া গেলে চলবে না।
শব্দ করার ঘরোয়া ছাড় কখন দেবেন?
অনেক বাঙালি পরিবার নিজেদের মতো কিছু ছাড় দেয়, বিশেষ করে ছোটরা খেললে। এগুলো ক্লাসিক নিয়মের বাইরে, তাই খেলার আগে সবাই মিলে ঠিক করে নিন:
- ছোটদের জন্য প্রাণীর ডাক: চার-পাঁচ বছরের শিশু বিড়াল দেখাতে “মিউ” বললে অনেক পরিবার মেনে নেয়।
- গানের রাউন্ডে গুনগুন: আলাদা একটা রাউন্ডে কথা ছাড়া শুধু সুর গুনগুন করার অনুমতি।
- হাততালি বা তুড়ি: কেউ কেউ তাল বোঝাতে হাততালি মেনে নেন, কারণ এটা মুখের শব্দ নয়।
আর যদি পুরো খেলাটাই শব্দ দিয়ে খেলতে চান, তার জন্য আলাদা একটা ধরন আছে। শব্দ করো ডেকে কার্ডগুলোই এমন যে আওয়াজ করে বোঝাতে হয়: কুকুরের ঘেউ ঘেউ, মুরগির কক কক, বাঘের হালুম গর্জন, কোকিলের কুহু কুহু ডাক, নৌকার ভোঁ, ট্রাক রিভার্সের বিপ বিপ আর কেটলির শিস। এই ধরনে শব্দ করা যাবে, কিন্তু কোনো শব্দ বা নাম বলা যাবে না। নিঃশব্দ রাউন্ডের মাঝে এটা একটা মজার বিরতি।
অনুমানকারীরা কী কী বলতে পারে?
অনুমানকারী দলের জন্য কোনো বাধা নেই। তারা যত খুশি উত্তর বলতে পারে, একসাথে চিৎকার করতে পারে, এমনকি প্রশ্নও করতে পারে: “এটা কি প্রাণী?” অভিনেতা শুধু মাথা নেড়ে হ্যাঁ বা না বলবে।
তবে তিনটি বিষয় খেয়াল রাখুন:
- প্রতিপক্ষ দল চুপ থাকবে: অন্য দল জোরে উত্তর বলে দিলে সেটা গোলমাল। নিয়ম রাখুন, প্রতিপক্ষ উত্তর বললে পয়েন্ট অভিনয়কারী দলের।
- কাছাকাছি উত্তর: কেউ “দৌড়ানো” বললে আর কার্ডে থাকে “দৌড়”, অভিনেতা উৎসাহের ইশারা দিতে পারে। শেষে ঠিক রূপটা বলতে হবে কি না, আগে ঠিক করুন।
- ভাষা মেশানো: বাংলা কার্ডের উত্তর ইংরেজিতে বললে, যেমন “বেলুন ফোলানো”র বদলে “blowing balloon”, পয়েন্ট পাবে কি না সেটাও শুরুতে ঠিক করুন। মিশ্র ভাষার পরিবারে সাধারণত দুটোই মেনে নেওয়া হয়।
নিয়ম ভাঙলে কী হবে?
তর্ক এড়াতে শাস্তির নিয়মটাও আগে ঠিক করে নিন। প্রচলিত তিনটা পদ্ধতি:
| পদ্ধতি | কী হয় | কাদের জন্য ভালো |
|---|---|---|
| নরম | শুধু সেই কার্ড বাতিল, পালা চলতে থাকে | পরিবার, বাচ্চারা |
| মাঝারি | কার্ড বাতিল আর পালা শেষ | সাধারণ আড্ডা |
| কড়া | পালা শেষ আর প্রতিপক্ষ এক পয়েন্ট পায় | প্রতিযোগিতামূলক বন্ধুদের দল |
একজন নিরপেক্ষ বিচারক রাখলে “ঠোঁট নাড়ল কি না” জাতীয় তর্ক দ্রুত মেটে, কারণ তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে আগে থেকে মেনে নেওয়া হয়। বাড়ির দাদা-দাদি এই ভূমিকায় সবচেয়ে মানানসই।
নতুনদের কীভাবে নিয়মটা মানাতে সাহায্য করবেন?
প্রথমবার যারা খেলে, তারা প্রায়ই অভ্যাসবশত কিছু বলে ফেলে। কয়েকটা কৌশল:
- অনুশীলন রাউন্ড: প্রথম দুটো কার্ডে পয়েন্ট গুনবেন না, শুধু অভ্যাস।
- সহজ কার্ড দিয়ে শুরু: অভিনয় করো ডেকের বেলুন ফোলানো, পিঠ চুলকানো বা জানালা খোলার মতো কাজ এমনিতেই নিঃশব্দে দেখানো যায়।
- মুখে হাত: নতুন কেউ বারবার কথা বলে ফেললে মজা করে নিয়ম করুন, অভিনয়ের সময় এক আঙুল ঠোঁটে রাখতে হবে।
- হাসি মেনে নিন: নিজের অভিনয় দেখে হেসে ফেলা নিয়মভঙ্গ নয়, ওটা খেলার অংশ।
পুরো নিয়মকানুন এক জায়গায় পেতে ডাম শারাডস খেলার নিয়ম পাতাটা পড়ে রাখুন।