ডাম শারাডস সময়সীমা: প্রতি পালা কত সময়ের হওয়া উচিত?
ডাম শারাডস সময়সীমা সাধারণত প্রতি পালায় ৬০ সেকেন্ড, মানে এক চিরকুটে এক মিনিট। লম্বা নামে ৯০, ছোটদের জন্য ৯০ থেকে ১২০, আর অভিজ্ঞ দলের জন্য ৪৫ সেকেন্ড রাখুন। সময় মাপুন ফোনের টাইমারে, মুখে গুনে নয়। এতে কেউ তর্ক তুলতে পারবে না।
সিনেমা বা গানের লম্বা নামেই সাধারণত বাড়তি সময় লাগে।
বয়স আর দল অনুযায়ী ডাম শারাডস সময়সীমা কত?
| দল | প্রতি পালা | কেন |
|---|---|---|
| ৪ থেকে ৭ বছরের বাচ্চা | ১২০ সেকেন্ড | ভাবতে আর ভঙ্গি খুঁজতে সময় লাগে |
| ৮ থেকে ১২ বছর | ৯০ সেকেন্ড | নিয়ম বোঝে, কিন্তু সংকেতে অভ্যস্ত নয় |
| কিশোর ও বড়, নতুন খেলোয়াড় | ৬০ সেকেন্ড | ক্লাসিক মান |
| মিশ্র বয়সের পরিবার | ৭৫ থেকে ৯০ সেকেন্ড | দাদি আর নাতনি দুজনেই স্বচ্ছন্দ |
| অভিজ্ঞ বন্ধুদের দল | ৪৫ সেকেন্ড | চাপ বাড়লে উত্তেজনাও বাড়ে |
| দ্রুতগতির রাউন্ড | ৬০ সেকেন্ডে যত বেশি কার্ড | পার্টির শেষ দিকে শক্তি ধরে রাখে |
এগুলো শুরুর হিসাব। প্রথম রাউন্ড খেলে দেখুন বেশিরভাগ কার্ড সময়ের আগে ধরা পড়ছে কি না। যদি অর্ধেকের বেশি কার্ড সময় শেষে আটকে যায়, তাহলে ১৫ সেকেন্ড বাড়িয়ে দিন।
কার্ডের ধরন অনুযায়ী কি সময় বদলাবেন?
হ্যাঁ, কারণ সব কার্ড সমান কঠিন নয়। কার্ড দেখে সময় ঠিক করার একটা সাধারণ নিয়ম:
- একটা কাজ বা প্রাণী: ৬০ সেকেন্ড যথেষ্ট। অভিনয় করো ডেকের স্ট্র দিয়ে পানি খাওয়া বা পিঠ চুলকানোর মতো কার্ড প্রায়ই ২০ সেকেন্ডেই ধরা পড়ে।
- সিনেমা বা গানের নাম: ৯০ সেকেন্ড। প্রথমে সংকেত, তারপর শব্দ গোনা, তারপর একেকটা শব্দ, এতে সময় লাগে। “দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে” এক মিনিটে প্রায় অসম্ভব।
- প্রবাদ বা লম্বা বাক্য: ৯০ থেকে ১২০ সেকেন্ড। “হাতি ঘোড়া গেল তল পিঁপড়া বলে কত জল” বোঝাতে অভিনেতার ধৈর্য আর দলের কল্পনা দুটোই লাগে।
- আবেগ: ৪৫ থেকে ৬০ সেকেন্ড। মুখের ভাবেই বেশিরভাগ বোঝানো যায়।
কঠিন কার্ডের জন্য আলাদা সময় রাখতে না চাইলে সহজ উপায় হলো একটা “বোনাস ৩০ সেকেন্ড” নিয়ম: প্রতি দল খেলায় দুবার অতিরিক্ত সময় চাইতে পারবে।
বাচ্চাদের জন্য সময় কীভাবে সামলাবেন?
ছোটদের খেলায় টাইমার চাপ তৈরি করতে পারে, আবার একেবারে না থাকলে খেলা ঝুলে যায়। মাঝামাঝি পথ:
- লম্বা সময়: ১২০ সেকেন্ড দিয়ে শুরু করুন।
- দৃশ্যমান টাইমার: বালিঘড়ি বা ফোনের টাইমার বাচ্চার সামনে রাখুন, সে নিজে দেখতে পাবে কতটা বাকি।
- শেষ ১০ সেকেন্ডের ইশারা: বড় কেউ হাত তুলে জানাবেন যে সময় শেষ হতে চলেছে।
- সময় শেষে সাহায্য: সময় ফুরালেও বড়রা একটা ইশারা দিয়ে উত্তর বের করতে সাহায্য করুন, যাতে শিশুটা হতাশ না হয়।
বাচ্চাদের জন্য ডেকের কার্ডগুলো যেমন বল খেলা, দোলনায় দোলা, কানামাছি ধরা আর লাটিম ঘোরানো এমনভাবে বাছা যে ছোটরা দ্রুত দেখাতে পারে। এগুলো দিয়ে শুরু করলে সময় নিয়ে চাপ অনেক কমে।
সময় শেষ হলে কী হবে?
এই নিয়মটা খেলার আগেই ঠিক করুন, নইলে শেষ সেকেন্ডের উত্তর নিয়ে তর্ক বাঁধে।
| পরিস্থিতি | প্রচলিত নিয়ম |
|---|---|
| সময় শেষ, উত্তর হয়নি | কার্ড বাতিল, কোনো পয়েন্ট নেই |
| বাঁশি বাজার মুহূর্তে উত্তর | টাইমকিপারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, সাধারণত পয়েন্ট দেওয়া হয় |
| প্রতিপক্ষের চুরি | সময় শেষে প্রতিপক্ষ একবার অনুমান করবে, ঠিক হলে তারা পয়েন্ট পাবে |
| দ্রুতগতির রাউন্ডে মাঝপথের কার্ড | সেই কার্ডের পয়েন্ট নেই, পরের দল নতুন কার্ড দিয়ে শুরু |
চুরি করার নিয়মটা প্রতিপক্ষকেও মনোযোগী রাখে, কারণ অন্য দলের পালাতেও তাদের পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে চুরির সুযোগ একবারই, আর তার জন্য আলাদা কোনো সময় নেই।
টাইমার ঠিক রাখার সহজ উপায় কী?
বাঙালি আড্ডায় সবচেয়ে চেনা তর্ক: “তুমি এত তাড়াতাড়ি গুনছ কেন?” এর সমাধান খুব সহজ।
- ফোনের টাইমার: মুখে গোনার বদলে ফোনের টাইমার বা স্টপওয়াচ চালু করুন, আর অ্যালার্মের শব্দ জোরে রাখুন।
- নিরপেক্ষ টাইমকিপার: অভিনয়কারী দলের কেউ নয়, প্রতিপক্ষের একজন বা বিচারক টাইমার চালাবেন।
- একটাই যন্ত্র: পুরো খেলায় একটাই ফোন বা ঘড়ি ব্যবহার করুন, যাতে সবার জন্য সময় সমান।
- শুরুর সংকেত: অভিনেতা কার্ড দেখার পর হাত তুললে তবেই টাইমার চালু, যাতে কার্ড পড়ার সময়টা কাটা না যায়।
টাইমার চালানোর দায়িত্ব প্রতি রাউন্ডে বদলে দিন, যাতে একজনকে সারাক্ষণ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয় আর সেও অভিনয়ের মজা পায়। কাগজের চিরকুটে খেললে অবশ্য একজন টাইমকিপার রাখতেই হবে, আর তাঁর হাতে স্কোরের খাতাও দিতে পারেন।
খেলার মাঝে কখন সময় বদলাবেন?
সময়সীমা একবার ঠিক করলেই সারা সন্ধ্যা সেটা ধরে রাখতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। দলের মেজাজ দেখে মাঝপথে বদলানো যায়, শুধু দুই দল একমত হলেই হলো।
- সবাই খুব দ্রুত ধরছে: কার্ডগুলো যদি ২০ সেকেন্ডেই শেষ হয়, তাহলে সময় কমিয়ে ৪৫ সেকেন্ড করুন, অথবা কঠিন ডেকে চলে যান।
- বারবার সময় ফুরাচ্ছে: তিনটা পালা পরপর ব্যর্থ হলে বুঝবেন সময় কম বা কার্ড বেশি কঠিন। ১৫ সেকেন্ড বাড়ান।
- শেষ রাউন্ডের উত্তেজনা: খেলার শেষ রাউন্ডে সময় কমিয়ে দিলে পয়েন্টের লড়াই জমে ওঠে।
- বয়স্ক কেউ যোগ দিলে: নানা বা দাদু মাঝপথে খেলায় এলে তাঁর পালায় আলাদা করে ৩০ সেকেন্ড বেশি দিন।
একটাই শর্ত: বদলানোর সিদ্ধান্ত হবে রাউন্ডের শুরুতে, কারো পালার মাঝখানে নয়। নইলে কোন দল কত সময় পেল, সেই হিসাব নিয়ে আবার তর্ক শুরু হবে।
পুরো খেলা কতক্ষণ চলবে?
পালার সময় জানলে পুরো খেলার হিসাবও করা যায়। মোটামুটি হিসাব: প্রতি পালা ৬০ সেকেন্ড, তার সাথে কার্ড তোলা আর হাসাহাসিতে আরও ৩০ সেকেন্ড। মানে প্রতি পালায় দেড় মিনিট।
- ৬ জন, প্রত্যেকে ২ বার: মোটামুটি ২০ মিনিট।
- ১০ জন, প্রত্যেকে ২ বার: মোটামুটি ৩০ মিনিট।
- ২০ জন, প্রত্যেকে ১ বার: মোটামুটি ৩০ মিনিট।
সময় কম থাকলে পালা ৪৫ সেকেন্ডে নামিয়ে আনুন, তাড়াহুড়োর মধ্যেও সবাই একবার করে অভিনয়ের সুযোগ পাবে। পয়েন্ট আর দল ভাগের বাকি নিয়ম পাবেন ডাম শারাডস পয়েন্ট ও দল ভাগ গাইডে, আর খেলোয়াড় সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে দেখুন ডাম শারাডস খেলতে কতজন লাগে।