দুজনে ডাম শারাডস: মাত্র দুইজন মিলে খেলার নিয়ম ও আইডিয়া
দুজনে ডাম শারাডস খেলা খুব সহজ: পালা করে একজন অভিনয় করুন, অন্যজন অনুমান করুন। দুজনে দুজনের জন্য চিরকুট লিখুন, আর এক মিনিটে যত শব্দ ধরা যায়, তত পয়েন্ট। এখানে প্রতিপক্ষ ঘড়ি, তাই দুজনের মোট পয়েন্টই আপনার রেকর্ড। ব্যস, এই তো নিয়ম।
পরের খেলায় সেই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করুন।
দুজনে ডাম শারাডস কীভাবে শুরু করবেন?
দলের প্রচলিত ডাম শারাডসে অন্তত তিনজন লাগে, কিন্তু বর্ষার সন্ধ্যায় বা লোডশেডিংয়ের রাতে যখন ঘরে শুধু দুজন, তখনও খেলা থামে না। ধাপগুলো:
- চিরকুট লিখুন। প্রত্যেকে অন্যজনের জন্য ১৫ থেকে ২০টা শব্দ লিখে আলাদা বাটিতে রাখুন।
- টাইমার ঠিক করুন। এক মিনিট।
- প্রথম জন অভিনয় করবেন। অন্যজনের বাটি থেকে চিরকুট তুলে একটার পর একটা দেখাবেন।
- অনুমানকারী বলবেন। ঠিক হলে চিরকুট পাশে রাখুন, পরের চিরকুট।
- সময় শেষে গুনুন। কটা চিরকুট ধরা পড়ল, লিখে রাখুন।
- ভূমিকা বদল। এবার দ্বিতীয় জন অভিনয় করবেন।
দুজনের জন্য কোন ফরম্যাট সবচেয়ে ভালো?
১. ঘড়ির বিরুদ্ধে একসাথে: দুজনের পয়েন্ট যোগ হবে। পাঁচ রাউন্ড শেষে মোট স্কোর খাতায় লিখুন, পরের সপ্তাহে সেই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা। দম্পতি আর ভাইবোনের জন্য সবচেয়ে মজার, কারণ কেউ হারে না।
২. মুখোমুখি প্রতিযোগিতা: প্রত্যেকে নিজের পয়েন্ট রাখবেন। যিনি অনুমান করলেন, পয়েন্ট তার। পাঁচ রাউন্ডে যার বেশি, তিনি জয়ী। একটু প্রতিযোগী মেজাজের দুই বন্ধু বা রুমমেটের জন্য।
৩. আবেগের চ্যালেঞ্জ: শুধু মুখ দিয়ে খেলা। দুই হাত পেছনে রেখে শুধু মুখভঙ্গিতে আবেগ বোঝাতে হবে। দশ সেকেন্ডে না পারলে পাস।
পয়েন্ট আর টাইমার কীভাবে সাজাবেন?
| খেলার ধরন | প্রতি পালায় সময় | রাউন্ড | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|
| ঘড়ির বিরুদ্ধে একসাথে | ১ মিনিট | ৫ জনপ্রতি | দুজনের মোট |
| মুখোমুখি প্রতিযোগিতা | ১ মিনিট | ৫ জনপ্রতি | যিনি অনুমান করলেন |
| আবেগের চ্যালেঞ্জ | প্রতি শব্দে ১০ সেকেন্ড | ১০টা শব্দ | ঠিক উত্তরে ১ |
| ধীর, লম্বা শব্দ | ৯০ সেকেন্ড, একটা শব্দ | ৫ জনপ্রতি | ঠিক উত্তরে ১ |
দুজনের খেলায় কোন শব্দ সবচেয়ে ভালো চলে?
দুজনে খেলায় কোনো দল সাহায্য করে না, তাই শব্দ এমন হওয়া চাই যা একা একজন পুরো শরীর দিয়ে দেখাতে পারে।
আবেগ ডেক থেকে: খুশি, হতাশ, লজ্জা, কৌতূহলী, ক্ষুধার্ত, নস্টালজিয়া, অনুশোচনা, সন্দেহ। “নস্টালজিয়া” বোঝাতে পুরনো অ্যালবামের পাতা উল্টে দীর্ঘশ্বাস ফেলুন। “ক্ষুধার্ত” হলে পেটে হাত দিয়ে রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে থাকুন।
অভিনয় করো ডেক থেকে:
| শব্দ | কীভাবে দেখাবেন |
|---|---|
| জামাকাপড় পরা | এক হাত হাতায় ঢুকছে না, লাফিয়ে লাফিয়ে প্যান্ট পরা |
| গিটার বাজানো | এক হাতে কর্ড, অন্য হাতে স্ট্রাম, চোখ বন্ধ |
| প্যানকেক উল্টানো | প্যান ঝাঁকিয়ে ওপরে ছুড়ে আবার ধরা |
| উঁচু বোর্ড থেকে ডাইভ | পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে দাঁড়ানো, তারপর হাত জোড় করে লাফ |
| নাবিক পাল তুলছে | দড়ি টেনে টেনে ওপরে তোলা, চোখে হাত দিয়ে দূরে দেখা |
অনুকরণ ডেক থেকে: রোবট, জলদস্যু, পেঙ্গুইন, শেফ, ফটোগ্রাফার, অপেরা গায়ক। জলদস্যুর জন্য এক চোখ হাত দিয়ে ঢাকুন আর এক পায়ে খুঁড়িয়ে হাঁটুন, পেঙ্গুইনের জন্য হাত শরীরে চেপে ছোট ছোট পায়ে দুলে দুলে হাঁটা।
ভাইবোন, দম্পতি বা রুমমেটের জন্য বাড়তি আইডিয়া
- স্মৃতির রাউন্ড: চিরকুটে লিখুন দুজনের জীবনের কোনো মুহূর্ত, যেমন “ছোটবেলায় আমের আচার চুরি” বা “প্রথম কক্সবাজার ভ্রমণ”। অভিনয় যত না মজার, মনে পড়াটা তার চেয়েও বেশি।
- রান্নাঘরের রাউন্ড: শুধু রান্না আর খাবারের শব্দ। দুজনের যিনি রান্না করেন না, তার অভিনয় দেখার মতো হবে।
- হারলে শাস্তি: যে কম পয়েন্ট পাবেন, তিনি পরের দিনের চা বানাবেন বা থালাবাসন ধোবেন।
- হাসি আটকানোর রাউন্ড: অনুমানকারী চুপচাপ মুখ বানিয়ে অভিনেতাকে হাসানোর চেষ্টা করবেন। অভিনেতা হেসে ফেললে সেই চিরকুট বাতিল। পাঁচ মিনিটেই পেট ব্যথা হয়ে যায়।
মা-বাবা আর ছোট্ট সন্তান দুজনে খেললে কী করবেন?
ঘরে শুধু মা আর পাঁচ-ছয় বছরের সন্তান থাকলে নিয়মটা একটু নরম করে নিন:
- সময় বাড়ান: এক মিনিটের বদলে ৯০ থেকে ১২০ সেকেন্ড রাখুন, অথবা প্রথম কয়েক পালায় টাইমার ছাড়াই খেলুন।
- ছবির কার্ড: চিরকুটে শব্দ না লিখে ছোট ছবি এঁকে দিন, যাতে পড়তে না জানলেও শিশু নিজে কার্ড তুলতে পারে।
- চেনা বিষয়: বিড়াল, হাতি, দাঁত মাজা, দোলনায় দোলার মতো শব্দ দিয়ে শুরু করুন।
- ইচ্ছে করে ভুল: শিশু অভিনয় করলে দুয়েকটা মজার ভুল উত্তর দিন। “না মা, এটা হাতি না!” বলে সে যখন আবার চেষ্টা করবে, সেটাই খেলার সবচেয়ে মিষ্টি মুহূর্ত।
দুজনে খেলায় কোন ভুলগুলো এড়াবেন?
- নিজের চিরকুট তোলা: দুই বাটি গুলিয়ে গেলে নিজের লেখা শব্দই হাতে আসে। বাটি দুটো আলাদা রঙের রাখুন।
- খুব ব্যক্তিগত শব্দ: শুধু দুজনের বোঝা কোনো ঠাট্টা হলে খেলা দ্রুত শেষ হয়ে যায়, চ্যালেঞ্জ থাকে না। মাঝে মাঝে রাখুন, সব চিরকুটে নয়।
- একজনের সব সময় অভিনয়: যে বেশি ভালো অভিনয় করেন, তিনিই বারবার দাঁড়িয়ে যান। পালা কঠোরভাবে বদলান।
- টাইমার ভুলে যাওয়া: দুজনে খেললে আলসেমি করে সময় না রাখার ঝোঁক থাকে, কিন্তু ঘড়ির চাপই খেলাটাকে মজার রাখে।
চিরকুট লেখার ঝামেলা না চাইলে?
দুজনে খেলার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, শব্দ লিখতে গিয়েই অন্যজনের শব্দ আন্দাজ হয়ে যায়। এর সহজ সমাধান হলো ফোন: একজন কপালে ফোন রেখে অনুমান করবেন, অন্যজন পর্দার শব্দ দেখে অভিনয় করবেন। কেউই আগে থেকে শব্দ জানে না, তাই খেলাটা দুজনের জন্যই পুরো ন্যায্য। পরে বন্ধুরা যোগ দিলে একই নিয়মে দলের খেলায় চলে যান।