অফিসে ডাম শারাডস: টিম বিল্ডিং ও অফিস পার্টির আইডিয়া
অফিসে ডাম শারাডস টিম বিল্ডিংয়ের সবচেয়ে সহজ খেলা: কোনো সরঞ্জাম লাগে না, বিভাগ মিশিয়ে দুই দলে ভাগ হলেই চলে। মিটিং, ফটোকপি মেশিন বা রিপ্লাই অলে ভুল পাঠানোর মতো চেনা দৃশ্য দিলেই সবাই হাসতে হাসতে খেলে। পিকনিক বা পার্টি, সব জায়গায় চলে।
ভিডিও কলেও খেলা যায়, নিচে তার নিয়মও আছে।
অফিসে ডাম শারাডস কেন এত ভালো কাজ করে?
বার্ষিক পিকনিক, বছর শেষের পার্টি বা নতুন সহকর্মীদের স্বাগত জানানো, ঢাকা থেকে কলকাতা, অনেক অফিসেই এমন আয়োজন হয়। সেখানে অনেক খেলা হয়, কিন্তু ডাম শারাডসের কয়েকটা সুবিধা আলাদা:
- কথা লাগে না: লাজুক সহকর্মীরাও অভিনয়ের আড়ালে সহজে অংশ নেন।
- পদমর্যাদা ভুলে যাওয়া: নতুন কর্মী যখন অভিনয় করেন আর বস হাসতে হাসতে উত্তর ধরেন, দূরত্ব কমে।
- দলগত চিন্তা: অনুমান করতে সবাইকে একে অপরের কথা শুনতে হয়।
- প্রস্তুতি কম: কাগজ, কলম আর একটা টাইমার হলেই চলে।
অফিস জীবনের সেরা শব্দ কোনগুলো?
সবচেয়ে মজা হয় যখন কার্ডের দৃশ্য সবার নিজের রোজকার জীবনের সাথে মিলে যায়। অফিসের জীবন ডেকের নমুনা থেকে কিছু:
| কার্ড | অভিনয়ের টিপস | কঠিনতা |
|---|---|---|
| ফটোকপি মেশিন | ঢাকনা তুলে কাগজ রাখা, বোতাম চাপা, আলো চোখে লাগা | সহজ |
| মিটিংয়ে নোট নেওয়া | দ্রুত লেখা আর মাঝে মাঝে মাথা নেড়ে সম্মতি | সহজ |
| লিফট | বোতাম চেপে দাঁড়িয়ে থাকা, উপরে সংখ্যা দেখা | সহজ |
| ভিডিও কল | ল্যাপটপের সামনে হাত নেড়ে “শুনতে পাচ্ছেন?” ভঙ্গি | মাঝারি |
| চাকরির ইন্টারভিউ | টাই ঠিক করে নার্ভাস হাসি, ফাইল হাতে বসে থাকা | মাঝারি |
| পারফরম্যান্স রিভিউ | একজন চোখ সরু করে কাগজ দেখছেন, অন্যজন ঘামছেন | মাঝারি |
| কাগজ আটকে যাওয়া | প্রিন্টারের ঢাকনা খুলে টানাটানি, হতাশ মুখ | কঠিন |
| আউট অফ অফিস রিপ্লাই | ব্যাগ গুছিয়ে সমুদ্রে চলে যাওয়া, পেছনে কম্পিউটার নিজে নিজে উত্তর দিচ্ছে | কঠিন |
মিউটে থাকা আর মিটিং রুম বুক করার মতো মজার কার্ডও ডেকে আছে। মিউটে থাকা দেখাতে জোরে জোরে কথা বলার মুখ করুন, কিন্তু কেউ শুনছে না, শেষে কেউ ইশারায় দেখাক মাইক বন্ধ।
বিব্রতকর অফিস মুহূর্তের রাউন্ড কেমন হয়?
সবচেয়ে বেশি হাসি আসে সেই মুহূর্তগুলো থেকে, যা সবার সাথে কখনো না কখনো ঘটেছে। বিব্রতকর মুহূর্ত ডেকের নমুনায় আছে:
- রিপ্লাই অলে ভুল করে পাঠানো: কীবোর্ডে চাপ দিয়েই চোখ বড় করে মাথায় হাত।
- ভুল ফাইল পাঠিয়ে দেওয়া: পাঠিয়ে দিয়ে পর্দায় ঝুঁকে পড়া, তারপর দৌড়ে কারো ডেস্কে যাওয়া।
- কারো নাম ভুলে যাওয়া: হাসিমুখে হাত মেলানো, কিন্তু চোখে আতঙ্ক।
- ক্যামেরায় আছি বুঝতে পারা: আরামে হাই তুলতে গিয়ে হঠাৎ সোজা হয়ে বসা।
- ভুল মানুষকে হাত নাড়ানো: উৎসাহে হাত নেড়ে বুঝতে পারা সে অন্য কাউকে ডাকছিল, তারপর চুল ঠিক করার ভান।
এই কার্ডগুলোর মজা হলো, প্রত্যেকে নিজের কোনো একটা দিনের কথা মনে করে হাসেন। রাউন্ড চালানোর আগে একটা সীমা ঠিক করে নিন: কারো ব্যক্তিগত ভুল বা নির্দিষ্ট সহকর্মীকে নিয়ে ঠাট্টা নয়, শুধু সবার চেনা সাধারণ পরিস্থিতি।
পেশা দিয়ে ছোট টিম রাউন্ড
ভিন্ন বিভাগের মানুষ যখন একে অপরের কাজ দেখায়, তখন খেলাটা আরও অর্থপূর্ণ হয়। পেশা ডেকের নমুনায় হিসাবরক্ষক, ম্যানেজার, ডাক্তার, দর্জি, নির্মাণ শ্রমিক, জেলে আর স্ক্রাম মাস্টার আছে।
- হিসাবরক্ষক: ক্যালকুলেটরে দ্রুত টিপে চশমা নামিয়ে কাগজ দেখা।
- ম্যানেজার: ঘড়ি দেখিয়ে দলকে তাড়া দেওয়া, তারপর হোয়াইটবোর্ডে কিছু আঁকা।
- স্ক্রাম মাস্টার: সবাইকে দাঁড় করিয়ে গোল করে একে একে কথা বলতে ইশারা, আইটি দল এটা সঙ্গে সঙ্গে ধরবে।
- দর্জি: গলায় ফিতা ঝুলিয়ে কারো কাঁধের মাপ নেওয়া, তারপর সুইয়ে সুতো পরানোর চেষ্টা।
চাইলে নিয়ম করুন, প্রত্যেককে নিজের বিভাগের বাইরের একটা পেশা দেখাতে হবে। এতে সবাই একটু হলেও অন্যের কাজের দিকে তাকান।
অফিস পিকনিক বা পার্টিতে কীভাবে চালাবেন?
- দল বানান: ৮ থেকে ২০ জন হলে দুই বা তিন দলে ভাগ করুন, প্রতি দলে বিভিন্ন বিভাগের মানুষ।
- নিয়ম বলুন: কথা বলা যাবে না, ঠোঁট নাড়ানো যাবে না, কোনো জিনিস দেখিয়ে উত্তর বোঝানো যাবে না।
- সময় ঠিক করুন: প্রতি পালায় ৬০ সেকেন্ড, একজন নিরপেক্ষ মানুষ টাইমার চালাবেন।
- রাউন্ড সাজান: প্রথমে অফিস জীবন, তারপর পেশা, শেষে বিব্রতকর মুহূর্ত।
- পয়েন্ট লিখুন: হোয়াইটবোর্ডে বড় করে স্কোর রাখুন, সবাই দেখতে পাবে।
- পুরস্কার দিন: ছোট্ট একটা মিষ্টির প্যাকেট বা “সেরা অভিনেতা” ঘোষণা যথেষ্ট।
দল ভাগ আর পয়েন্টের আরও বিস্তারিত নিয়ম জানতে ডাম শারাডস পয়েন্ট ও দল ভাগ পড়ে নিন।
হাইব্রিড বা অনলাইন টিমের সাথে কীভাবে খেলবেন?
অনেক দলের অর্ধেক মানুষ অফিসে, বাকিরা বাসা থেকে কাজ করেন। তাতেও খেলা আটকায় না, শুধু একটু গুছিয়ে নিতে হয়।
- একজন সঞ্চালক রাখুন: তিনি প্রতিটা কার্ড আলাদা করে অভিনেতাকে ব্যক্তিগত মেসেজে পাঠাবেন।
- ক্যামেরা ঠিক করুন: অভিনেতা এমনভাবে বসবেন যাতে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত দেখা যায়, কারণ হাতের ইশারাই আসল।
- উত্তরের নিয়ম: সবাই একসাথে মাইক খুললে গোলমাল হয়, তাই শুধু অভিনেতার দল চ্যাটে উত্তর লিখবে। সময়ের মধ্যে কেউ ঠিক লিখলেই দল পয়েন্ট পাবে।
- ছোট পালা: ইন্টারনেটের দেরির কথা ভেবে প্রতি পালায় ৯০ সেকেন্ড রাখুন।
ভিডিও কল নিয়ে আরও খুঁটিনাটি জানতে অনলাইনে ডাম শারাডস গাইডটা কাজে আসবে। অফিসে বসা আর বাসায় থাকা মানুষদের মিশিয়ে দল বানালে কেউ নিজেকে বাইরের মনে করেন না।
খেলাটা সবার জন্য আরামদায়ক রাখবেন কীভাবে?
- জোর করবেন না: কেউ অভিনয় করতে না চাইলে তাকে টাইমার বা স্কোরকিপারের দায়িত্ব দিন।
- ভাষা মেশান: অফিসে অনেক ইংরেজি শব্দ চলে, তাই “প্রেজেন্টেশন” বা “স্প্রেডশিট” ইংরেজিতে বললেও ঠিক ধরুন।
- সময় মেপে থামুন: দুপুরের বিরতিতে খেললে দুই রাউন্ডের বেশি নয়, যাতে কাজের সময় না খায়।
- শুরুটা সহজ রাখুন: প্রথম কার্ডগুলো এমন দিন, যা নতুন যোগ দেওয়া কর্মীও চিনবেন।
- সবাইকে পালা দিন: তালিকা ধরে একে একে সবাইকে অভিনয়ের সুযোগ দিন, যাতে শুধু দুই-তিনজন সাহসী মানুষই মঞ্চ দখল না করেন।
- হাসি নিয়ে সতর্ক থাকুন: অভিনয় দেখে হাসা খেলার অংশ, কিন্তু কাউকে নিয়ে ব্যঙ্গ নয়।
এভাবে খেললে বছর শেষের পার্টির পরেও করিডোরে “রিপ্লাই অল” নিয়ে হাসি চলতেই থাকে।